জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ:

টেকনাফে চরম অস্বাস্থ্যকর ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি তৈরি করে বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসন ও স্থানীয়দের চোখ ফাঁকি দিয়ে একটি চক্র অনুমোদন ছাড়াই এসব মিষ্টি তৈরি করে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও দোকানে সরবরাহ করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘খিরসা-বি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে লালমোহন, সাদা মিষ্টি, রসমালাই, খিট টোস, চমচম, ক্ষীরজামসহ বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সেখানে জন্মদিনের কেক, দই, পিন্নি, গাজরের হালুয়া ও পেস্ট্রিসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যও তৈরি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের পুরাতন বাজারে কাস্টমস অফিসসংলগ্ন খালের পাড়ে একটি পুরোনো ও জরাজীর্ণ ঘরে মিষ্টি তৈরির কারখানাটি স্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কারখানাটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কেজি মিষ্টি তৈরি করে উপজেলার বিভিন্ন বাজারের দোকানে সরবরাহ করা হয়। তবে এসব মিষ্টি তৈরিতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও প্রয়োজনীয় উপাদান ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে কারখানাটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য তৈরি করা হচ্ছে। মিষ্টির বিভিন্ন পাত্র ও গামলার ওপর মাছি ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোনো কোনো পাত্রে মৃত মাছি ও পোকামাকড়ও দেখা গেছে। কারখানাটির আশপাশে তীব্র দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছিল।

পরিদর্শনকালে কারখানাটির মিষ্টি তৈরি ও বাজারজাত করার প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সেখানে কর্মরতরা প্রথমে কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। পরে রায়হান ও রিয়াদ নামের দুই যুবক জানান, মিষ্টি তৈরির কারখানার প্রয়োজনীয় অনুমোদন এখনো নেওয়া হয়নি। তাদের প্রতিষ্ঠানের ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্সও নেই বলে তারা স্বীকার করেন।

তাদের ভাষ্য, বিএসটিআইয়ের অনুমোদনসহ পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ছাড়পত্রের প্রয়োজন রয়েছে। তবে এসব অনুমোদন এখনো নেওয়া হয়নি।

মিষ্টির পাত্রে মৃত মাছি ও পোকামাকড় থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কারখানার একজন বলেন, প্যাকেটজাত করার সময় ছাঁকনির মাধ্যমে সেগুলো পরিষ্কার করা হবে।

এদিকে, অভিযোগ রয়েছে, কারখানাটিতে তৈরি মিষ্টি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের মিষ্টি হিসেবে পরিচয় দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

হ্নীলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বাহাদুর শাহ তপু বলেন, বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কারখানা স্থাপন করে মিষ্টি তৈরি ও বাজারজাত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা মিষ্টি তৈরির কারখানা বন্ধে সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

টেকনাফ উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সোহরাব হোসেন বলেন, অনুমোদন ছাড়া মিষ্টির কারখানা স্থাপনের সুযোগ নেই। তিনি বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর কক্সবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া মিষ্টি তৈরির কোনো সুযোগ নেই। অনুমতি ছাড়া কারখানায় মিষ্টি তৈরি করে বাজারজাত করার অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অস্বাস্থ্যকর ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে অনুমোদন ছাড়া মিষ্টি তৈরি ও বাজারজাত করার অভিযোগের বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।