সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
কক্সবাজার শহরের প্রাণকেন্দ্র কলাতলী লাইট হাউস দারুল উলুম মাদ্রাসা নিয়ে দীর্ঘ দুই বছর যাবত চলে আসা দুই পক্ষের বিরোধ অবশেষে অবসান হয়েছে। গত শনিবার দুপুরে এলাকাবাসী দুই পক্ষ নিয়ে বৈঠক করে। বৈঠকে নানা বিষয়ে আলোচনা পর্যালোচনার পরে সন্তোষজনক সমাধান হয়েছে। এতে মাওলানা মুহাম্মদ আলীর কর্তৃত্বই বহাল থাকছে।
মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানান, ২০১৫ সালে তৎকালীন রামু জোয়ারিয়ানাল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মুহাম্মদ আলীকে মজলিসে শুরার সিদ্ধান্ত মতে মুহতামিম নিযুক্ত করা হয়। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর মাদ্রাসাটি শিক্ষা দীক্ষা ও অবকাঠামোর দিক দিয়ে প্রভুত উন্নতি সাধন করেন। স্বল্পতম সময়ে ইহা কক্সবাজারের উল্লেখ যোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ২০১৮/১৯ সালে মাদ্রাসার দোকানের সালামি ইত্যাদি নিয়ে তৎকালীন কয়েকজন শোরা সদস্যদের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হলে তারা বিভিন্ন কলা কৌশলের আশ্রয় নিয়ে তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারনের চেষ্টা চালায়।একপর্যায়ে মুহতামিম মাওলানা মুহাম্মদ আলী আইনের আশ্রয় নিলে মাননীয় আদালত তার পক্ষে আদেশ দেন।আদালতে নির্দেশনা অমান্য করে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের উচ্চ মহল ও প্রশাসনের চাপে কিছু মাদ্রাসার বাহিরে থাকার পর এলাকাবাসি ও ছাত্র শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় ২০২১ সালে দায়িত্বভার গ্রহণ করে মাদ্রাসা চালিয়ে যেতে থাকেন।২০২২ সালে কক্সবাজার শহরের সাত তলা ফাউন্ডেশনের বৃহৎ ও অত্যাধুনিক মসজিদ নির্মান কাজ শুরু করে ২০২৪ সালে দুতলা নির্মাণ সমাপ্ত করেন। মাদ্রাসা মার্কেটের দোকান গুলোর চুক্তির মেয়াদ ২০২১ সালে শেষ হলেও ভাড়াটিয়া কিছু দোকানদার চুক্তি নবায়নে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিগত দেড় বছর যাবত ভাড়া না দিয়ে চুক্তি়বিহীন জোরপূর্বক দোকান ভোগ দখল করতে থাকে।বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাথে ভাড়াটিয়াদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। উক্ত ভাড়াটিয়া এবং মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক মসজিদ নির্মানে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাকে াবারওখ অপসারনের চেষ্টা করতে থাকে। ২৩/০৭/২০২৩ ইং তারিখের নির্মান কমিটির সভায় নির্মাণ সংক্রান্ত আয়-ব্যয় এর হিসাব প্রস্তুত করনের লক্ষে ৩ সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। উক্ত ৩ জনের মধ্যে ২ জন অপর সিনিয়র সদস্যকে না জানিয়ে তার অগোচরে এবং তার স্বাক্ষরবিহীন এক অসম্পূর্ণ রিপোর্ট প্রস্তুত করে বিগত ০৫/০৬/২০২৪ ইং তারিখে মসজিদ নির্মাণ কমিটির সভায় পেশ করা হয়। রিপোর্ট সম্বন্ধে একজন সদস্য কিছুই জানেন না বলায় এবং রিপোর্টে উত্থাপিত আপত্তিগুলো অযৌক্তিক প্রতিয়মান হওয়ায় সর্বসম্মতিক্রমে উক্ত রিপোর্ট স্থগিত করা হয়। অভিযোগ গুলোর ব্যাখ্যা প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পরামর্শ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে পুণরায় অডিট করার সিদ্ধান্ত হয়।
ইতিমধ্যে উক্ত স্থগিত ও অসম্পূর্ণ ও বিতর্কিত রিপোর্টি প্রদর্শন করে তারা মাওলানা মুহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে থাকে।তাই বিষয়টি চূড়ান্ত নিস্পত্তির লক্ষ্যে বিগত ০৪/০৩/২০২৫ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত মজলিসে আমেলা (কার্যকরী কমিটি) সভায় ৪ সদস্য বিশিষ্ট অডিট কমিটি গঠণ করা হয়। মসজিদ নির্মাণে সকল প্রকার আয়-ব্যয় এর বিল ভাউচার সহ যাবতীয় নথিপত্র যাচাই-বাচাই পূর্বক অডিট সম্পন্ন করেন। বিতর্কিত অডিট রিপোর্টে উত্থাপিত অভিযোগ গুলোর বিপরিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ হতে ব্যাখ্যা তলব করা হয়।উক্ত ব্যাখ্যা পর্যালোচনান্তে বিগত ৩০/১০/২০২৫ ইং একটি অডিট রিপোর্ট পেশ করেন।
বিগত ০৭/০২/২০২৬ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত মজলিসে শুরা অধিবেশনে অডিট রিপোর্ট পেশ করা হলে তা অনুমোদিত ও গৃহীত হয়। আয়-ব্যয় হিসাবের উপর শুরা সন্তুষ্ট প্রকাশ করে। অভিযোগ করীরা উক্ত রিপোর্টও না মেনে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। বিগত ২৩/০২/২০২৬ ইং তারিখে অভিযোগ কারীদের দাবী অনুযায়ী পূণরায় অডিট করার সিদ্ধান্ত হয় এবং এমর্মে এলাকার মান্যগণ্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি সমধান কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটি নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে ঢাকা হতে এম এন ইসলাম এন্ড কোং চার্টার্ড একাউন্টটেন্ট দিয়ে পূণরায় অডিট করান। উক্ত অডিট রিপোর্টে মাওলানা মুহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতি বা খেয়ানত প্রমাণিত হয়নি। অধিকন্তু দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ কারীদেরকে হিসাব বিষয়ে অনভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নন বলে মন্তব্য করা হয়।
মসজিদ নির্মাণে কোন দুর্নীতি প্রমাণিত না হওয়ায় এবার ওয়াকফ কমিটির দোহাই দিয়ে মসজিদ-মাদ্রাসা দখলের জন্য নতুনভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করে। বর্তমান লাইট হাউজ মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ যে জমিতে প্রতিষ্ঠিত ও অবস্থিত তা সরকারী গণফুর্ত বিভাগ ও খাস দখলীয় জমি। জনৈক রশিদ আহমদ কর্তৃক ওয়াকফকৃত যে জমির দলিল দেখিয়ে রশিদ আহমদ ওয়াকফ এস্টেট গঠিত হয়েছে সে জমি বিগত ৩২ বছর যাবৎ মাদ্রাসার দখলে নেই এবং তা কোথায় আছে এ পর্যন্ত জানা যায়নি। দানপত্রে উল্লেখিত দাগটি বর্তমান মাদ্রাসা হতে প্রায় ৬০০ ফুট দুরে মর্মে সার্ভে রিপোর্ট থেকে বুঝা যায়। রশিদ আহমদ ওয়াকফ এস্টেট এর জন্য গঠিত কমিটি উক্ত ওয়াকফকৃত সম্পত্তি পরিচালনা ও দেখবাল করার জন্যই প্রযোজ্য। কিন্তু তারা উক্ত ওয়াকফ কমিটি দেখিয়ে লাইট হাউজ মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ দখল করার অপচেষ্টা করতে থাকে। মূলত কয়েকজন দোকানের ভাড়াটিয়া কর্তৃক বিগত ৬ বছর যাবৎ অবৈধভাবে ভোগ করে আসা দোকান গৃহের অবৈধ দখলদারিত্ব আরো মজবুত করার জন্য এবং মসজিদ-মাদ্রাসার সম্পত্তি অবৈধভাবে ভোগদখল করার জন্য অনুরুপ একের পর এক ষড়যন্ত্র করতে থাকে। মাওলানা মুহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ চার্টার্ট একাউন্টেন্ট এর অডিটে প্রমানিত না হওয়ায় অভিযোগ কারিরাই এলাকাবাসির তোপের মুখে পড়ে যায়।অডিট কার্য সম্পন্ন করতে এলাকার মান্যগন্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত সমাধান কমিটি অডিট রিপোর্টের ফলাফল অবহিত করন এবং সৃষ্ট বিরোধ নিরসের জন্য গত শনিবার ( ২৫/৮/২৬) মাদ্রাসা কার্যালয়ে উভয় পক্ষ নিয়ে সভা আহবান করেন।মাওলানা মুহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাকে মুহতামিম হিসেবে বহাল রাখা হয়।পাশাপাশি মাওলানা নুরুল মুস্তফা কে নায়েবে মুহতামিম এবং মাওলানা মিসবা উদ্দীন কে মুঈনে মুহতামিম নিযুক্তির সুপারিশ করা হয়।মাদ্রাসা সুষ্ঠু ভাবে পরিচালিত হওয়ার জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাবনা দেয়া হয় যা আগামী মজলিসে শুরায় পেশ করা হবে।
এলাকাবাসীর অনুরূপ উদ্যোগের ফলে বিগত দুই বছর যাবত চলে আসা অচলাবস্থা ও বিরোধ নিরসন হবে বলে এলাকাবাসী ও মাদ্রাসার শিক্ষক রা আশাবাদী।
লাইট হাউস দারুল উলুম মাদ্রাসা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ অবসান
পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে
