মো. এমরান, লামা;
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আলেম-ওলামাদের সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি। মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে ‘লীগ বাহিনী’তে পরিণত করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বান্দরবানের লামা পৌর বাস টার্মিনালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বান্দরবান দক্ষিণ জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আল্লামা মামুনুল হক বলেন, পুলিশের কাজ জনগণের সেবা করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। কিন্তু বিগত সরকার নিজেদের দলীয় স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করেছে।
বর্তমান সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেন এমন কোনো পথে পা না বাড়ান, যাতে ভবিষ্যতে আরেকটি শেখ হাসিনার সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও বলেন, “এক মা দুই সন্তান জন্ম দিলেন, এর মধ্যে একজন বৈধ হলে অন্যজন কীভাবে অবৈধ হয়?” এ প্রসঙ্গে তিনি ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ ভোটে জয়ী হওয়ার পরও বর্তমান সরকার গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নানা টালবাহানা করছে। কোনো ধরনের টালবাহানা না করে দ্রুত গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
সরকারের সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে তেল, বিদ্যুৎ ও সারের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা সংসদে দেশে কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করলেও বাস্তবে কৃষকেরা সার পাচ্ছেন না। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে জনজীবনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান দক্ষিণ জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ তৈয়ব হোসেন। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।
দলের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও জেলা সেক্রেটারি ডা. মাওলানা শফিকুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু সাঈদ নোমান।
এ ছাড়া ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় উলামায়ে কেরাম সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
