‘ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার’ কারণ দেখিয়ে উত্তর আমেরিকা থেকে শত শত কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণ লন্ডনে স্থানান্তর করেছে নেদারল্যান্ডস। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ডিএনবি)। খবর বিবিসির।

ডিএনবি জানিয়েছে, কয়েক মাস ধরে চলা এক জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ৮৬ টন স্বর্ণ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এসব স্বর্ণ বর্তমানে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে সংরক্ষিত রয়েছে। ব্যাংকটির মতে, ‘যেকোনও সংকটময় পরিস্থিতিতে’ সেখান থেকে এই মূল্যবান ধাতু আরও সহজে লেনদেন করা সম্ভব।

ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট ওলাফ স্লাইপেন জানান, ‘আমাদের সক্ষমতা ও প্রস্তুতি আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য ছিল।’

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার চলমান বাণিজ্য বিরোধের মধ্যেই এমন সিদ্ধান্ত সামনে এলো। বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর উভয় দেশই একে অপরের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।

ডিএনবি জানায়, মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে চলা এই স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় নিউইয়র্ক ও অটোয়া থেকে ২৭ টন স্বর্ণের বার নেদারল্যান্ডসের জাইস্ট শহরে সরিয়ে নেয়া হয়। পরবর্তীতে ঠিক একই পরিমাণের স্বর্ণ লন্ডনে স্থানান্তর করা হয়। এক্ষেত্রে স্বর্ণর বারগুলো গলানোর কোনও প্রয়োজন পড়েনি।

আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ঠিক কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ পরিবহন করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। ব্যাংকটি জানায়, বাকি অংশটি নিউইয়র্কে বিক্রি করে পরবর্তীতে আবার লন্ডন থেকে তা কিনে নেয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কেনাবেচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি পরিবহনের সমন্বয় ঘটানোর ফলে এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ স্থানান্তরের মতো জটিল কাজের ঝুঁকি এড়ানো গেছে।’

‘ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, সে সম্পর্কে ডিএনবি স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। তবে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বর্তমানে এক অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাণিজ্যেও।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের কারণে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, কাঠ ও গাড়ি শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে আগস্টে কানাডার প্রায় ২৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণাও দেয়া হয়েছে।

ডিএনবি জানায়, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে সংরক্ষিত স্বর্ণকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে সহজে লেনদেনযোগ্য স্বর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়’। ফলে, যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডায় মজুত থাকার চেয়ে যেকোনও সংকটে এসব স্বর্ণ আরও দ্রুত কাজে লাগানো সম্ভব।