নাছির উদ্দিন সোহেল, সিবিএন
কক্সবাজারের মহেশখালীতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার পথে ‘এফবি তাহসিন’ নামের একটি ফিশিং ট্রলার ডুবে গেছে। ট্রলারে থাকা আট মাঝিমাল্লার মধ্যে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে মহেশখালী চ্যানেলের নাজিরারটেক পয়েন্টের ‘খাড়িরমুখ’ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জেলেরা হলেন—কুতুবজোম ইউনিয়নের খোন্দকারপাড়া এলাকার মৃত মোক্তল হোসেনের ছেলে ফয়েজ আহমদ এবং মেহেরিয়াপাড়ার সোহাগ মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম।
নিখোঁজ রয়েছেন জাগিরাঘোনা এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে মহিবুল্লাহ এবং খোন্দকারপাড়া এলাকার মৃত মুজিবুর রহমানের ছেলে নুরুল আলম।
দুর্ঘটনাকবলিত ট্রলারটির মালিক কুতুবজোম ইউনিয়নের খোন্দকারপাড়া এলাকার ফরিদ আলম বলে জানা গেছে।
উদ্ধার হওয়া এক জেলের বরাতে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় ট্রলারে মোট আটজন মাঝিমাল্লা ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন ট্রলারের ভেতরে এবং দুজন ওপরে অবস্থান করছিলেন। রাতে সাগরের ঢেউ হঠাৎ উত্তাল হয়ে উঠলে মাঝি পরিস্থিতি খারাপ বুঝতে পেরে সবাইকে সতর্ক করেন।
এর কিছুক্ষণ পর প্রবল ঢেউয়ের ধাক্কায় ট্রলারটি উল্টে যায়। এ সময় ট্রলারের ভেতরে থাকা ছয়জনের মধ্যে দুজন বের হয়ে আসতে পারলেও চারজন ভেতরে আটকা পড়েন।
পরে আশপাশে থাকা মাছ ধরার ট্রলারগুলো ঘটনাস্থলে ছুটে এসে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করে। ট্রলারের ভেতর থেকে ফয়েজ আহমদ ও সাইফুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে মহিবুল্লাহ ও নুরুল আলম এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ নুরুল আলমের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। তাঁর মা জানান, মাত্র সাত মাস আগে নুরুল আলম বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের সময় নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য জীবিকার তাগিদে ফিশিং ট্রলারে করে সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তিনি। ঋণের বোঝা কমানোর আশায় সাগরে যাওয়া নুরুল এখন নিখোঁজ। তাঁর ফিরে আসার অপেক্ষায় উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাগরে আবহাওয়া পরিবর্তন ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে মাছ ধরার ট্রলারগুলো প্রায়ই ঝুঁকির মুখে পড়ে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে মাছ ধরার নৌযানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম রাখা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস মেনে চলা এবং দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুস সুলতান বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
