আবদুর রশিদ, বান্দরবান :

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে ‘রাজকীয়’ সংবর্ধনা দিয়েছে বান্দরবান জেলা বিএনপি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে বিশাল সমাবেশ। সংবর্ধনাকে ঘিরে বান্দরবান শহর ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত সংবর্ধনা ও সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা অধ্যাপক ওসমান গনি। জেলার সাত উপজেলা থেকে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এতে অংশ নেন।

নবনিযুক্ত মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীকে স্বাগত জানাতে সুয়ালক থেকে বান্দরবান শহর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক তোরণ নির্মাণ করা হয়। সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

দুপুরে মন্ত্রীর গাড়িবহর সুয়ালক হয়ে বান্দরবান বাসস্টেশন, শেরেবাংলা মেম্বার এলাকা ও রাজা মাঠ অতিক্রম করে প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশস্থলে পৌঁছায়। এ সময় সড়কের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অবস্থান নিয়ে তাকে স্বাগত জানান।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বান্দরবান জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীর নেতৃত্বে বান্দরবানের উন্নয়ন, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানুষের কল্যাণে নতুন গতি সৃষ্টি হবে। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তারা।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে দলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেন, “বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমাদের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের স্মারক। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলকে আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের কল্যাণই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

সংবর্ধনা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে বান্দরবান শহর এবং প্রধান সড়কজুড়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দিনভর বিভিন্ন স্লোগান ও মিছিলের মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীরা নবনিযুক্ত মন্ত্রীকে স্বাগত জানান।