আবু মোরশেদ চৌধুরী:

এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে “বৈশ্বিক সংহতি জোরদার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন।”
বিশ্বজুড়ে এই দিনটি পালন করা হয় মানবিক সহায়তাকর্মীদের সাহস, নিষ্ঠা, অঙ্গীকার ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যাঁরা সংঘাত, দুর্যোগ ও বিভিন্ন সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিরলসভাবে মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।
২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বিশ্ব মানবিকতা দিবসের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। ২০০৩ সালের ১৯ আগস্ট ইরাকের বাগদাদে ক্যানাল হোটেলে ভয়াবহ বোমা হামলায় নিহত মানবিক সহায়তাকর্মীদের স্মরণে এই দিবসটি ২০০৮ সাল থেকে পালিত হয়ে আসছে । ওই হামলায় জাতিসংঘের ইরাক বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি সার্জিও ভিয়েরা দে মেলোসহ ২২ জন মানবিক সহায়তাকর্মী প্রাণ হারান।
এই দিনে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি সেইসব নিবেদিত প্রাণ মানবিক সহায়তাকর্মীকে, যারা সংঘাতপূর্ণ এলাকা, দুর্যোগকবলিত অঞ্চল এবং নানা প্রতিকূল পরিবেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জীবন রক্ষা, সুরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে চলেছেন।
বর্তমানে বিশ্বে ২৫২ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বেঁচে থাকার জন্য মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই ভয়াবহ বাস্তবতা আমাদের সামনে আরও শক্তিশালী বৈশ্বিক সংহতি, কার্যকর মানবিক উদ্যোগ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় মানবিক সংগঠনগুলোর ওপর আরও বেশি বিনিয়োগের জরুরি প্রয়োজন তুলে ধরে।বিশ্ব মানবিকতা দিবসের মূল অগ্রাধিকার সমূহ, মানবিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা:মানবিক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে জীবনরক্ষাকারী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা।
জবাবদিহিতা:মানবিক কার্যক্রমকে স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মর্যাদা, অধিকার ও প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে পরিচালিত করা।
বৈশ্বিক সংহতি:ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট মোকাবিলায় যৌথ দায়িত্ববোধ, ন্যায্য অংশীদারিত্ব এবং কার্যকর সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা।
স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে নেতৃত্বের কেন্দ্রে নিয়ে আসা।
এই বিশ্ব মানবিকতা দিবসে আমাদের মনে রাখতে হবে,স্থানীয় জনগোষ্ঠী কেবল মানবিক সহায়তার গ্রহীতা নয়, তারাই অনেক সময় প্রথম সাড়াদানকারী, সম্মুখসারির নেতা এবং পুনরুদ্ধার ও সহনশীলতা গড়ে তোলার প্রধান শক্তি।
তাই আসুন, আমরা স্থানীয় নেতৃত্ব, ন্যায্য অংশীদারিত্ব, মানসম্মত অর্থায়ন এবং স্থানীয়ভাবে পরিচালিত মানবিক কার্যক্রমের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার আরও দৃঢ় করি। সংকটের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা মানুষ ও সংগঠনগুলো যেন তাদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত ও সমাধান তৈরিতে অর্থবহ ভূমিকা রাখতে পারে এবং অধিক ক্ষমতা অর্জন করে তা নিশ্চিত করি।
বিশ্বের সকল মানবিক সহায়তাকর্মীর প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা,যাঁরা সাহস, সহমর্মিতা ও মর্যাদার সঙ্গে মানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন।

মানবতা • সংহতি • মর্যাদা • স্থানীয় নেতৃত্ব • কার্যকর পদক্ষেপ।