নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রবাসে থেকে কষ্টার্জিত অর্থে কেনা জমি রক্ষা করতে গিয়ে আমাকে টানা চার মাস মিথ্যাচার, সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাসী হামলা ও মিথ্যা আবেদনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। অবশেষে গত ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কক্সবাজার জেলা লিগ্যাল এইড অফিস সরেজমিন পরিমাপ, কমিশন প্রতিবেদন ও উভয় পক্ষের দলিল পর্যালোচনা শেষে সাবেক সিভিল সার্জন ডা. ফরিদ উদ্দিন মো. ওসমানের দায়ের করা দখল পুনরুদ্ধারের আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন।
২০১০ সালে আমি চন্দ্রিমা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড থেকে রেজিস্ট্রিমূলে প্লটটি ক্রয় করে। বি.এস. দাগ নং ২২৫১৪, প্লট নং ৪৭। সেই থেকে টানা ১৬ বছর ধরে আমরা এই জমি নিরবচ্ছিন্নভাবে, প্রকাশ্যে ও বিনা বাধায় ভোগদখল করে আসছি। এই ১৬ বছরে কোনো দিন, কোনো পক্ষ থেকে আমাদের দখল নিয়ে আপত্তি ওঠেনি।
অন্যদিকে ডা. ফরিদ উদ্দিন মো. ওসমান যে জমির দাবি করছেন, সেটি তাঁর প্রয়াত স্ত্রীর নামে ২০০৮ সালে রেজিস্ট্রিকৃত — বি.এস. দাগ নং ২২৫১৮, প্লট নং ২৮। স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি ও তাঁর সন্তানেরা ওয়ারিশ সূত্রে দাবিদার হলেও অদ্যাবধি তাঁদের কারও নামে কোনো দলিল সৃষ্টি হয়নি, কোনো খতিয়ানও সৃষ্টি হয়নি।
এখানেই ঘটনার মূল সত্যটি লুকিয়ে আছে — দুই পক্ষের দাগ নম্বর ভিন্ন, প্লট নম্বর ভিন্ন, জমির অবস্থানই ভিন্ন। অর্থাৎ দাবির কোনো ভিত্তিই ছিল না। এই মৌলিক সত্যটি জেনেও যে কার্যক্রম চালানো হয়েছে, সেটিকে আমরা সুস্পষ্ট প্রতারণা ছাড়া আর কিছু বলতে পারি না।
৬ এপ্রিল ২০২৬। ডা. ফরিদ উদ্দিন মো. ওসমান সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে একাধিক সংবাদমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করেন। ওই সংবাদে দাবি করা হয় — ২০০৮ সালে প্লট রেজিস্ট্রির পর আমাকে জায়গাটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল, এবং ২০২৬ সালে এসে আমি জায়গা ছাড়ছি না।
এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কোনোদিন ওই জমির ভাড়াটিয়া ছিলাম না — আমি রেজিস্ট্রিমূলে ক্রয়কৃত বৈধ মালিক। ভাড়ার সপক্ষে আজ পর্যন্ত একটি চুক্তিপত্র, একটি রসিদ কিংবা একটি প্রমাণও ওসমান দেখাতে পারেনি।
আমরা মনে করি, জোরপূর্বক দখলের আগে জনমত বিভ্রান্ত করা এবং প্রবাসী একজন মানুষকে সামাজিকভাবে হেয় করাই ছিল এই মিথ্যা প্রচারণার উদ্দেশ্য। এতে আবু বক্কর ছিদ্দিকের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্মানহানি হয়েছে।
৬ এপ্রিল ২০২৬। পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি বুঝে এবং জোরপূর্বক দখলের আশঙ্কায় পরদিনই কক্সবাজার সদর মডেল থানায় এজাহার দায়ের করি।
১৩ এপ্রিল ২০২৬। ডা. ফরিদ উদ্দিন মো. ওসমান চন্দ্রিমা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক হোছাইন আহমদ আনসারী-কে সঙ্গে নিয়ে, আমার সম্পূর্ণ অগোচরে, সমিতির প্যাডে একটি একতরফা সিদ্ধান্ত তৈরি করেন।
আমাকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। আমাদর বক্তব্য শোনা হয়নি। কোনো শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়নি। যে সমিতি থেকে আমি নিজেই জমি ক্রয় করেছি, সেই সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজের পদ ও প্যাডকে ব্যবহার করে গোপনে বিরোধী পক্ষের অনুকূলে কাগজ তৈরি করবেন — এটি আমার কাছে ক্ষমতার সুস্পষ্ট অপব্যবহার এবং ষড়যন্ত্রে সরাসরি অংশগ্রহণ বলেই প্রতীয়মান হয়।
১৬ এপ্রিল ২০২৬। থানায় অভিযোগ দায়েরের পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমি নিম্ন আদালতের শরণাপন্ন হয় এবং সি.আর. মামলা নং ৫৪৮/২০২৬ দায়ের করি । মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
৩০ এপ্রিল ২০২৬। কাগজে-কলমে দাবি প্রতিষ্ঠা করতে না পেরে এবার সরাসরি পেশিশক্তির আশ্রয় নেওয়া হয়। ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমার ১৬ বছরের রেজিস্ট্রিযুক্ত ভোগদখলীয় প্লটটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালানো হয়।
এই ন্যক্কারজনক হামলায় জড়িতদের একাংশ পরবর্তীতে কারাভোগ করেছেন। ডা. ওসমানের তথাকথিত বায়নাসূত্রে জমির দাবিদার নুরুল ইসলাম ওরফে ‘বার্মাইয়া নুরুল ইসলাম’ কারাভোগ পরবর্তী বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
এ ঘটনায় পৃথকভাবে সি.আর. মামলা নং ৬৮৩/২০২৬ নিম্ন আদালতে দায়ের করা হয়েছে, যা চলমান।
৭ মে ২০২৬। জোরপূর্বক দখলে ব্যর্থ হয়ে ডা. ফরিদ উদ্দিন মো. ওসমান আমাকে প্রতিপক্ষ করে কক্সবাজার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে দখল পুনরুদ্ধারের আবেদন করেন।
এখানেই ঘটে ঘটনার সবচেয়ে চমকপ্রদ মোড়। যিনি এক মাস আগে সংবাদমাধ্যমে আমাকে “ভাড়াটিয়া” বলে প্রচার করেছিলেন, তিনিই এবার লিখিত আবেদনে দাবি করলেন — ২০২৩ সালে আবু বক্কর ছিদ্দিক তাঁকে জমি থেকে উচ্ছেদ করেছেন!
দুটি বক্তব্য একসঙ্গে সত্য হতে পারে না। একজন মানুষ একই সঙ্গে “ভাড়াটিয়া” এবং “উচ্ছেদকারী” হতে পারেন না। এই স্ববিরোধিতাই প্রমাণ করে, প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য বদলে ফেলা হচ্ছিল।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় — ২০২৩ সালে উচ্ছেদের দাবির সপক্ষে কিংবা অতীতে ওই জমিতে নিজের দখল থাকার সপক্ষে একটি প্রমাণও তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি।
বিজ্ঞ লিগ্যাল এইড অফিসার উভয় পক্ষের দলিলপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে লক্ষ্য করেন যে, আবু বক্কর ছিদ্দিক এবং আবেদনকারীর পক্ষে দাবিকৃত জমির বি.এস. দাগ ও প্লট নম্বর সম্পূর্ণ
ভিন্ন।
সত্যতা নিশ্চিত করতে তিনি কমিশন নিয়োগ দেন। ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ লিগ্যাল এইড অফিসার নিজে সরেজমিনে উপস্থিত হন এবং নিয়োগকৃত অ্যাডভোকেট কমিশনার ও সিভিল কোর্ট কমিশনার জমি পরিমাপ করেন।
২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রদত্ত প্রাথমিক লিখিত আদেশে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়:
প্রতিপক্ষ আবু বক্কর ছিদ্দিক বি.এস. ২২৫১৪ দাগের ৪৭ নং প্লটে সঠিক অবস্থানে ও সঠিকভাবে ভোগদখলে রয়েছেন। আবেদনকারীর দাবিকৃত বি.এস. ২২৫১৮ দাগের ২৮ নং প্লটে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক জবর দখলে নেই এবং বেদখলও করেননি।
মাটিতে দাঁড়িয়ে ফিতা দিয়ে মাপা এই পরিমাপই মাসের পর মাস চালানো মিথ্যা প্রচারণাকে এক নিমেষে ধূলিসাৎ করে।
১২ আগস্ট ২০২৬। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিন ধার্য ছিল। প্রতিপক্ষ আবু বক্কর ছিদ্দিক সশরীরে হাজির হন।
কিন্তু আবেদনকারী ডা. ফরিদ উদ্দিন মো. ওসমান অনুপস্থিত থাকেন।
যিনি সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন, সমিতির প্যাডে কাগজ বানিয়েছেন, — নিজের আবেদনের চূড়ান্ত শুনানির দিনে তিনি আদালতমুখো হননি। আমাদের কাছে এই অনুপস্থিতিই তাঁর দাবির প্রকৃত ভিত্তি সম্পর্কে সবচেয়ে বড় জবাব।
সার্বিক তথ্য-প্রমাণ, কমিশন প্রতিবেদন ও সরেজমিন পরিদর্শনের ভিত্তিতে বিজ্ঞ লিগ্যাল এইড অফিসার পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত আদেশে ডা. ফরিদ উদ্দিন মো. ওসমানের দায়ের করা আবেদনটি খারিজ করে দেন।
দীর্ঘ চার মাসের মানসিক নির্যাতন, সামাজিক হেয় প্রতিপন্নকরণ, আর্থিক ক্ষতি ও নিরাপত্তাহীনতার পর এই আদেশে আমি স্বস্তি প্রকাশ করছি।
