পেকুয়া প্রতিনিধি;

স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার যাত্রা শেষ হলো লাশ হয়ে। অসুস্থ স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে রেখে আসতে শনিবার চট্টগ্রাম থেকে কুতুবদিয়ার পথে রওনা হয়েছিলেন শামীম। কিন্তু মগনামা জেটিঘাটে বোটে ওঠার সময় পা পিছলে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন তিনি। দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার উৎকণ্ঠার পর রোববার সকালে ঘাটের পানির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর নিথর মরদেহ।

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা জেটিঘাটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামীম ভোলা জেলার বাসিন্দা মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে। তাঁর স্ত্রী করিমা বেগম। বিয়ের এক বছর পর প্রথমবারের মতো স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শামীম ও তাঁর স্ত্রী মগনামা জেটিঘাটে বোটের অপেক্ষায় ছিলেন। বেলা আড়াইটার দিকে বোট এলে তাতে ওঠার সময় হঠাৎ পা পিছলে পানিতে পড়ে যান শামীম। এরপর তাঁর সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পেকুয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শফিউল আলম জানান, রোববার সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে পাঁচ সদস্যের একটি ডুবুরি দল এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জেটিঘাটের নিচ থেকে শামীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা এক জোড়া জুতা ও একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।

শামীমের শ্বশুরবাড়ি কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুংয়ের মংলার পাড়া এলাকায়। স্বজনরা জানান, করিমা অসুস্থ থাকায় তাঁকে বাবার বাড়িতে রেখে আসতে শামীম চট্টগ্রাম থেকে কুতুবদিয়া যাচ্ছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে গেল তাঁর জীবনের শেষযাত্রা।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, সকালে নিখোঁজ শামীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।