কায়মা জান্নাত

আল্লাহর নামে শুরু করছি, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। সকল প্রশংসা মহান রাব্বুল আলামিনের, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। অজস্র দরূদ ও সালাম রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার নূরানী পাক চরণে। রবিউল আউয়াল পবিত্র সেই মাস, যে মাসে সায়্যিদুনা সায়্যিদুল মুরসালীন ওয়ান নবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়ায় তশরীফ এনেছেন নিখিল বিশ্বের অদ্বিতীয় মহামানব এবং মহান আল্লাহর প্রিয়তম হাবীব। সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। তিনি মানবজাতিকে অন্ধকার, অজ্ঞতা, অরাজকতা থেকে মুক্ত করে সত্য, ন্যায়, সৌহাদ্য এবং শান্তির পথের সন্ধান দেন। শৈশবকাল থেকেই সকল নৈতিক গুণের সমাহার প্রকাশিত হয় তাঁর সুমহান চরিত্রে। অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে থেকেও তিনি সর্বাবস্থায় সত্যের ওপর ইস্পাতের ন্যায় অটল ছিলেন। মানবজাতিকে হেদায়ত প্রদর্শন করে হলেন মানবতার মুক্তির দিশারী। আসুন এখানে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার শৈশব কৈশোর নিয়ে জেনে নিই।

প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার শুভাগমন :
মহান আল্লাহর প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল আ-মুল ফিল (হস্তিবর্ষ) মোতাবেক ৫৭০ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ১২ই রবিউল আউয়াল, সোমবার আরবের মক্কা নগরে সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে শুভাগমন করেন। তাঁর পিতার নাম আবদুল্লাহ এবং মাতার নাম বিবি আমেনা। তিনি মাতৃগর্ভে থাকাকালীন তাঁর পিতা আবদুল্লাহ বাণিজ্য উপলক্ষে সিরিয়ায় গমন করেন। বাণিজ্য শেষে সিরিয়া থেকে ফেরার পথে মদিনার উপকণ্ঠে ইন্তেকাল করেন।

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার দুধমাতা:
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মের পর প্রথম সাত দিন নিজ মায়ের দুধ পান করেন। অতঃপর আরবের প্রথানুযায়ী শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে লালন-পালনের জন্য সাদ গোত্রের বিবি হালিমা আস সাদিয়াকে দুগ্ধপান ও লালনের জন্য দেওয়া হয়।

বক্ষ বিদীর্ণ বা সিনা চাক:
প্রিয়নবী রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার বহুবার সিনাচাক হয়েছে। চার বছর বয়সে বক্ষ বিদীর্ণ করার ঘটনা সর্বপ্রথম সংঘটিত হয়। ঐতিহাসিকদের মতে, বক্ষ বিদীর্ণ বা সিনা চাকের ঘটনা চারবার সংঘটিত হয়েছে।
১. শৈশবে দুধমাতা হযরত হালিমা সাদিয়ার ঘরে লালিত পালিত হওয়া অবস্থায়।
২. দশবছর বয়সে (ফাতহুল বারী ১৩/৪৮১)।
৩. নবুওয়াত প্রকাশের বছর (৬১০ খ্রি.) (সুনানে আবু দাউদ, ২১৫)।
৪. মে’রাজের সময় (সহীহ বুখারী শরীফ- ৩৪৯) (সীরাতে মুস্তফা ১/৭৫)।

মাতৃক্রোড়ে প্রিয়নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম:
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বয়স যখন ছয় বছর তখন তিনি মাতা আমেনার কাছে ফিরে আসেন। তাঁর এই মাতৃ সান্নিধ্য বেশিদিন স্থায়ী ছিল না, তিনি মক্কা থেকে পিতা আবদুল্লাহর কবর যিয়ারত করার জন্য মায়ের সাথে মদিনায় গমন করেন। মদিনা থেকে ফেরার পথে ‘আবওয়া’ নামক স্থানে মাতা বিবি আমেনা অসুস্থ হয়ে সেখানে ইন্তেকাল করেন। এ সময় দাসী উম্মে আইমন তাঁকে মক্কায় নিয়ে এসে তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিবের কাছে পৌঁছে দেন।

দাদার অভিভাবকত্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম :
প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাদা ছিলেন আবদুল মুত্তালিব। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মের পর দাদা আবদুল মুত্তালিব নবজাত শিশুর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তিনি শিশুটির নাম রাখেন ‘মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব’। মমতাময়ী মা বিবি আমেনার পক্ষ থেকে তাঁর নাম রাখা হয় ‘আহমদ’।

দাদার ইন্তেকাল:
দাদা আবদুল মুত্তালিবের কাছে মাত্র দুই বছর লালিত পালিত হন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর আট বছর বয়সে ৫৭৯ খ্রিস্টাব্দে দাদা আব্দুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করেন। এরপর থেকে তিনি চাচা আবু তালিবের হাতে লালিত হন। (তবকাতে ইবনে সা’আদ ১/৭৪)।

চাচার অভিভাবকত্বে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম:
দাদা আবদুল মুত্তালিবের ইন্তেকালের পর মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাঁর আপন চাচা আবু তালিব। চাচা তাঁকে অত্যন্ত আদর-যত্নে লালন-পালন করলেও নিজের আর্থিক অবস্থা সচ্ছল না থাকায় প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শৈশব থেকেই কঠোর পরিশ্রম করতে হতো। পরিবারের সহায়তার জন্য তিনি চাচার উট ও মেষ চরাতেন এবং অবসর সময়ে মক্কায় আগত তীর্থযাত্রীদের পানি পান করানোর দায়িত্ব পালন করতেন। শত ব্যস্ততা ও পরিশ্রমের মাঝেও তিনি ভবিষ্যৎ জীবনের প্রস্তুতি হিসেবে ধনু চালনা, বর্শা নিক্ষেপ ও তলোয়ার চালনার মতো যুদ্ধবিদ্যাগুলো অত্যন্ত দক্ষতার সাথে শিক্ষা গ্রহণ করেন।

সিরিয়া সফর ও দূরদর্শী অভিজ্ঞতা:
মাত্র বারো বছর বয়সে ৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমবার চাচা আবু তালিবের সাথে ব্যবসায়িক কাফেলায় সঙ্গী হয়ে সিরিয়া গমন করেন। এই ভ্রমণের মাধ্যমে তিনি প্রথমবারের মতো জন্মভূমির বাইরে বিশাল পৃথিবী ও ব্যাপক কর্মক্ষেত্রের সাথে পরিচিত হন। পথিমধ্যে, খোদাদ্রোহী সামুদ জাতির প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ অবলোকন এবং প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য দর্শন করেন। এই সফরকালেই বসরা নামক স্থানে পৌঁছালে বিখ্যাত পাদ্রী বুহাইরা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অলৌকিক নিদর্শন দেখে তাঁকে প্রতিশ্রুত শেষ নবি হিসেবে চিনে ফেলেন। (আল খাসায়েসুল কুবরা ১/৮৪)। তিনি ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে বাঁচাতে আবু তালিবকে সতর্ক করে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দ্রুত মক্কায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

শৈশবের মুজিজা:
হযরত আবু মূসা আল-আশ’আরী রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেনঃ কিছু প্রবীণ কুরাইশসহ নবীজির চাচা আবু তালিব (ব্যবসার উদ্দেশ্যে) সিরিয়ার দিকে রওয়ানা হলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সাথে রওয়ানা হন। তারা (বুহাইরাহ্) পাদ্রীর নিকট পৌঁছে তাদের নিজেদের সওয়ারী থেকে মালপত্র নামাতে থাকে, তখন উক্ত পাদ্রী (গীর্জা থেকে বেরিয়ে) তাদের নিকটে এলেন। অথচ এ কাফিলা এর আগে অনেকবার এখান দিয়ে চলাচল করেছে কিন্তু তিনি কখনও তাদের নিকট (গীর্জা) বেরিয়ে আসেননি বা তাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপও করেননি। বর্ণনাকারী বলেন, কাফেলার লোকেরা নিজেদের হাওদা ইত্যাদি খুলছে, এমন সময় পাদ্রি তাদের মাঝে প্রবেশ করল। অবশেষে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার কাছে এসে তার হাত ধরে বলল, ইনিই তো সমগ্র জগতের নেতা, ইনিই রাব্বুল আলামীনের রাসূল, আল্লাহ তা’আলা তাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করবেন। তখন কুরাইশ নেতাদের কেউ কেউ প্রশ্ন করল, তুমি তা কিরূপে জান? পাদ্রি বলল, যখন তোমরা পাহাড়ের পশ্চাৎ হতে বের হয়ে সম্মুখে এসেছ, তখন হতে এমন কোন বৃক্ষ ও পাথর বাকি ছিল না যা তাঁকে সিজদাহ্ করেনি। বস্তুত এ দুই জিনিস কেবলমাত্র নবীকেই সিজদাহ্ করে। আর আমি তাকে মোহরের নবুওয়্যাত দ্বারা চিনতে পেরেছি, যা তার কাঁধের গোড়ায় নিম্নদিকে আপেলের মতো রয়েছে। অতঃপর পাদ্রি ফিরে আসলো এবং কাফেলার লোকেদের জন্য খাবার তৈরি করল। যখন সে খাবার নিয়ে তাদের কাছে আসলো, তখন দেখল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফেলার লোকেদের উটগুলো নিয়ে এমন অবস্থায় আসলেন, দেখা গেল এক খণ্ড মেঘ তাঁর উপর ছায়া দান করে রয়েছে। আর যখন তিনি কাফেলার লোকেদের কাছে আসলেন, তখন দেখলেন, লোকেরা পূর্ব হতেই ছায়াবিশিষ্ট স্থানগুলো দখল করে ফেলেছে। কিন্তু যখন তিনি বসলেন, তখন বৃক্ষের ছায়া তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়ল। (এ অবস্থা দেখে) পাদ্রি কাফেলার লোকেদেরকে বলল, তোমরা তাকিয়ে দেখ গাছের ছায়া তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়েছে। (এ সমস্ত অলৌকিক ঘটনা দেখে) পাদ্রি বুহাইরাহ্ বলে উঠল, আমি তোমাদেরকে আল্লাহর শপথ দিয়ে প্রশ্ন করছি, বল! তোমাদের মধ্যে তার অভিভাবক কে? লোকেরা বলল, আবূ তালিব। অতঃপর পাদ্রি (তাঁকে ফেরত পাঠানোর জন্য) অনেকক্ষণ ধরে আবূ তালিব-কে আল্লাহর শপথ দিয়ে অনুরোধ করতে থাকে। অবশেষে আবূ তালিব তাঁকে ফেরত পাঠিয়ে দিলেন। আর তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ও বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু-কে সাথে পাঠিয়ে দিলেন। এদিকে পথে খাওয়ার জন্য পাদ্রী তাঁর সাথে কিছু কেক ও যায়তুনের তেল দিল।
(সূত্র: সহীহ জামে তিরমিযী-৩৬২০, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ- ৩১৭৩৩, মুসনাদে বাযযার-৩০৯৬, আল মুসতাদরাক লিল হাকিম-৪২২)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার অনুপম সুমাহান চরিত্র:
প্রিয়নবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গুণে গুণান্বিত এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, যাঁর চরিত্রমাধুর্যের প্রশংসা শত্রু-মিত্র সকলের মুখে সমভাবে ধ্বনিত হয়েছে। শৈশবকাল থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত চিন্তাশীল, নম্র ও কোমল স্বভাবের। তাঁর অনন্য কর্মনিষ্ঠা, অবিচল সত্যবাদিতা ও নিখাদ আমানতদারীর কারণে মক্কাবাসীরা তাঁকে ‘আল-আমীন’ (পরম বিশ্বস্ত) উপাধিতে ভূষিত করে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বিশ্বস্ততা এতটাই সর্বজনীন ছিল যে, তাঁর কঠোর প্রতিপক্ষ আবু সুফিয়ানও রোম সম্রাট হেরাক্লিয়াসের দরবারে অকুন্ঠ চিত্তে তাঁর সততা ও সচ্চরিত্রতার উচ্চ প্রশংসা করেছিলেন। (সহীহ বুখারী শরীফ, ৭)।
মহান আল্লাহ স্বয়ং তাঁর চরিত্রের সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের অধিকারী” (সূরা কলম, আয়াত-৪)। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “আমি প্রেরিত হয়েছি সর্বোত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দানের জন্য” (মুসনাদে আহমাদ, ৮৯৩৯/৮৯৫১)।
নবুয়ত পরবর্তী জীবনে চরম শত্রুতাপূর্ণ পরিবেশেও তিনি ধৈর্য, দয়া ও ক্ষমাশীলতার জীবন্ত প্রতীক ছিলেন। মানবজাতির মুক্তির জন্য আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম আদর্শ ঘোষণা করেছেন। তাঁর এই অতুলনীয় চরিত্র পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করা যেন খালি চোখে আকাশের তারকারাজি গণনা করার মতোই অসম্ভব।

পরিশেষে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের ১২ই রবিউল আউয়াল, সোমবার ৬৩ বছর বয়সে মদিনায় উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহার হুজুরা শরীফে দুনিয়া হতে পর্দা করেন এবং সেখানেই সমাহিত করা হয়েছে। যাঁর দুনিয়াবি হায়াত ও ইন্তেকাল উম্মতের জন্য অতীব কল্যাণকর।[আল হাদিস]

আমাদের জন্য শিক্ষা:
সাইয়্যেদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালিন প্রিয়নবী আকা মাওলা হযরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার শৈশব ও কৈশোর ছিল চরম প্রতিকূলতা এবং কণ্টকাকীর্ণ কষ্টে ঘেরা। জীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি কঠিন সব পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। কিন্তু আল্লাহর ওপর অটল ভরসা, অসীম ধৈর্য এবং সত্যের ওপর অবিচল থেকে তিনি প্রতিটি সংকটকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে সমাধান করেছেন। আর তাঁর এই ত্যাগ ও আদর্শের পূর্ণতা ঘটে তাঁর দুনিয়া থেকে পর্দার মধ্য দিয়ে।চরম প্রতিকূল পরিবেশেও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা, সীমাহীন ধৈর্য আর সত্যের আলো দিয়ে তিনি সমস্ত সামাজিক ও মানসিক অন্ধকার দূর করেছিলেন। নবুওয়াত প্রকাশপূর্ব জীবনের এই অনুপম অধ্যায় সমগ্র মানবজাতির জন্য ধৈর্য ও সততার এক শাশ্বত আদর্শ । আল্লাহ তাআলা আমাদের কে প্রিয়নবীর সুন্নাহ অনুসরণ করে সুন্দর জীবন গঠন করার তাওফিক দান করুন। আমিন বেহুরমতে সায়িদিল মুরসালিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।