সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
কক্সবাজার শহরের ঐতিহ্যেবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লাইট হাউস দারুলউলুম মাদ্রাসার মজলিসে শুরার সভা আন্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও লাইট হাউস দারুলউলুম মাদ্রাসার সদরে মুহতামিম মাওলানা মুহাম্মদ মুসলিম সাহেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৫ আগষ্ট দুপুরে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আন্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ এর মহাসচিব আল্লামা ওবায়দুল্লাহ হামজা এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী মহাসচিব মাওলানা মুহসিন শরিফ।মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মুহাম্মদ আলীর পরিচালনায় মজলিসে শুরার গুরুত্বপূর্ণ সভায় মাদ্রাসার লেখা পড়া, আর্থিক রিপোর্ট ও প্রশাসনিক অবস্থা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সিদ্ধান্ত মতে মাওলানা নুরুল মুস্তফাকে নায়েবে মুহতামিম, মাওলানা মিসবাহুদ্দীনকে মুঈনে মুহতামিম এবং মাওলানা হাফিজুদ্দীনের কে নাজেমে তালীমাত থেকে অব্যহতি দিয়ে তদস্থলে মাওলানা রহিমুল্লাহ কে নাজেমে তালীমাত নিযুক্ত করা হয়।
বিগত এক বছর যাবত মুহতামিম মাওলানা মুহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অপবাদ দিয়ে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক ও এলাকার কিছু লোক নৈরাজ্য সৃষ্টি করে আসতেছিল। ফলে মাদ্রাসাটি নিয়ে বিরোধ চরম আকার ধারন করছিল।অভিযোগ তদন্ত করার জন্য এলাকার মান্যগণ্য ব্যক্তিদের নিয়ে ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তারা ঢাকা থেকে চার্টার একাউন্টেন্ট এনে অডিট করে।অডিট রিপোর্টে মুহতামিম মাওলানা মুহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় অভিযোগ কারি দের অভিযোগ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমুলক বলে প্রমানিত হয়।যার ফলে লাইট হাউস মাদ্রাসা উন্নয়নের রুপকার মুহতামিম মাওলানা মুহাম্মদ আলীর প্রতি এলাকার মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আগের চেয়ে বৃদ্ধি পায় এবং ষড়যন্ত্র কারিদের মুখে চুনকালি পড়ে।যার প্রতিফলন আজকের শুরায় দেখা যায়। এলাকাবাসীর অনুরূপ উদ্যোগের ফলে প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে এতে শৃঙ্খলা ফিরে আসে। এ জন্য আজকের মজলিসে শুরা এবং কাওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আন্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ এলাকাবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
সভায় আরো বলা হয় যে,দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিম খানা যে জমিতে অবস্থিত ও প্রতিষ্ঠিত তা সরকারি গণফূর্ত বিভাগ থেকে বরাদ্দ পাওয়া।
জনৈক রশিদ আহমদ কর্তৃক ওয়াকফকৃত জমিটি কাগজেনির্ভর জমি যা সঠিকভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব না হওয়ায় বিগত তিন দশক পর্যন্ত মাদ্রাসার ভোগ দখলে আনা সম্ভব হয়ে উঠেনি। ওযাকফ দলিলে বর্নিত দাগের অবস্থান বর্তমান মাদ্রাসার অবস্থান থেকে প্রায় ৬০০/৭০০ ফুট দুরে। সুতরাং ওয়াকফ প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে যে কমিটির অনুমোদন নেয়া হয়েছে তা দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিম খানা কে নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনার দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। সভায় মাদ্রাসার মালিকানাধীন দোকান সমুহ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন করে সুষ্ঠু সমাধান দেয়ার জন্য এলাকার মান্যগণ্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠণ করা হয়। তাছাড়া এলাকার প্রতিনিধিত্বশীল কয়েকজন ব্যক্তিদের কে মজলিস শুরায় অন্তর্ভক্ত করে শুরা কমিটিকে পুন গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
সভা শেষে শুরার সম্মানিত সদস্য জোয়ারিয়ানালা মাদ্রাসার সুযোগ্য পরিচালক মাওলানা হাফেজ আব্দুল হক সাহেব মাদ্রাসার উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা এবং মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতা মরহুম হাফেজ নিজামুদ্দিন, মরহুম মাওলানা আবুল কালাম ও মরহুম মাওলানা আলি হোসেনসহ সকলের মাগফিরাত, জেলা পরিষদের প্রশাসক নুরুল বছর চৌধুরী সাহেবের রোগমুক্তি কামনা করে দোয়া করেন।
