আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি :
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৯০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৬৯ লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ টাকা। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ আশারতলী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার জারুলিয়াছড়ি নামক স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
১১ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত পিলার ৪৬ থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত জারুলিয়াছড়ি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবিরের সার্বিক দিকনির্দেশনায় একটি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে বিজিবির বিশেষ আভিযানিক দল সন্দেহভাজন কয়েকজন চোরাকারবারিকে দেখতে পেয়ে ধাওয়া করলে তারা একটি ব্যাগ ফেলে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলের ভেতরে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে পরিত্যক্ত ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়।
ব্যাগটি খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে মোট ৯টি কার্টনে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৮৯ হাজার ৯১৬ পিস বার্মিজ ইয়াবা রয়েছে। এর মধ্যে হলুদ রঙের ৮৯ হাজার ১৬ পিস এবং সবুজ রঙের ৯০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক সিজার মূল্য ২ কোটি ৬৯ লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ টাকা।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং এ ঘটনায় জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধ, মানবপাচার রোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্তে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সীমান্তজুড়ে মাদকবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকায় মাদক পাচারকারীরা নানা কৌশল অবলম্বন করলেও তাদের তৎপরতা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
