পেকুয়া প্রতিনিধি;
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের দরদরিয়াঘোনা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নুরুল ইসলাম (রহ.) আছরের নামাজের আগে ওযু করতে গিয়ে পা পিছলে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা সড়কের কারণে সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাওলানা নুরুল ইসলাম মগনামা ইউনিয়নের সাতঘরপাড়া গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে এবং দরদরিয়াঘোনা জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আছরের নামাজের প্রস্তুতি হিসেবে মসজিদের ওযুখানায় ওযু করতে গিয়ে হঠাৎ পা পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। কিন্তু দরদরিয়াঘোনা থেকে মহুরীপাড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী থাকায় অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অন্য কোনো যানবাহন ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। বাধ্য হয়ে আহত ইমামকে কাঁধে বহন করে অনেক দূর নিয়ে যেতে হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দরদরিয়াঘোনা-মহুরীপাড়া সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সড়কটি চলাচল উপযোগী থাকলে আহত ইমামকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হতো এবং তাঁর জীবন রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ধর্মপ্রাণ, সাদাসিধে ও বিনয়ী মানুষ হিসেবে পরিচিত মাওলানা নুরুল ইসলামের মৃত্যুতে মুসল্লি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দরদরিয়াঘোনা এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।
এদিকে, এলাকাবাসী দ্রুত দরদরিয়াঘোনা থেকে মহুরীপাড়া পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, অবকাঠামোগত অবহেলার কারণে যেন আর কোনো মানুষকে এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এলাকাবাসী মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তাঁরা।
