পেকুয়া প্রতিনিধি;
সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শহীদ ওয়াসিমের স্মৃতিবিজড়িত পেকুয়ায় আয়োজিত দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ১ হাজার ২০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারের মাঝে গৃহনির্মাণ সামগ্রী হিসেবে ১০০ বান (৮০০ পিস) ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় পেকুয়া শহীদ জিয়া ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত আলোচনা সভা, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও গৃহনির্মাণ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপপরিচালক) ডা. মং টিং ঞো।
নার্স ও পুষ্টিবিদ ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দিনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান, পেকুয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. সফওয়ানুল করিম এবং কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ব্রেইন অ্যান্ড মাইন্ড বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন।
দিনব্যাপী পরিচালিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতালের মেডিসিন, নিউরো মেডিসিন, শিশু রোগ, গাইনি ও অবসটেট্রিকস, সার্জারি, ডায়াবেটিস ও হরমোন, কার্ডিওলজি, চর্ম ও যৌনরোগ, অর্থোপেডিক্স ও ট্রমা, নাক-কান-গলা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং দন্ত বিভাগসহ মোট ১২টি বিভাগের ৩৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ৮ জন অভিজ্ঞ নার্স ও ১০ জন স্বাস্থ্যকর্মী সেবা প্রদান করেন। চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও বিতরণ করা হয়।
একই অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারের প্রত্যেককে ১৬ পিস করে মোট ৮০০ পিস (১০০ বান) ঢেউটিন বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের মতে, এসব উপকরণ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বসতঘর পুনর্নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক বলেন, “দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো চিকিৎসকদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসন সহায়তা একসঙ্গে নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।”
প্রধান অতিথি ডা. মং টিং ঞো বলেন, “বন্যার পর স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকেরা সম্মিলিতভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।”
বিশেষ অতিথি ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ধরনের উদ্যোগ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
মো. সফওয়ানুল করিম বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের এ মানবিক উদ্যোগ বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনার আহ্বান জানান।
