আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি:
সীমান্তের নিরাপত্তার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনপদের অসহায়, দরিদ্র ও দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণের পাশাপাশি স্থানীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কিয়াংঘরে আর্থিক সহায়তা, শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহারসামগ্রী এবং অসহায় পরিবারের মধ্যে রেশনসামগ্রী বিতরণ করেছে বিজিবি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর ব্যবস্থাপনায় ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজুপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ফাত্রাঝিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ মানবিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এ কার্যক্রমে সীমান্তবর্তী এলাকার প্রায় ৩৩০ জন অসহায়, দরিদ্র ও দুঃস্থ নারী-পুরুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।
৩৪ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসির নেতৃত্বে দুইজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়।
শুধু চিকিৎসাসেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না বিজিবির এ উদ্যোগ। কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কিয়াংঘরে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের মাঝেও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের হাতে রেশনসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
সীমান্তের প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের অনেকেরই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ সীমিত। এমন বাস্তবতায় বিজিবির উদ্যোগে নিজ এলাকার কাছাকাছি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এতে সীমান্তবর্তী মানুষের সঙ্গে বিজিবির পারস্পরিক যোগাযোগ ও আস্থার সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, মহাপরিচালকের ‘সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’—এই ভিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সীমান্তরক্ষার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকার অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের প্রয়োজনের সময়ে সহযোগিতা করাই এসব কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য।
৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, “বিজিবি সীমান্ত পাহারা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি সব সময় সীমান্তবর্তী অসহায়, দরিদ্র ও বিপন্ন মানুষের কল্যাণে পাশে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
বিজিবির এমন উদ্যোগ সীমান্ত এলাকার মানুষের জন্য শুধু তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও সহায়তার সুযোগই তৈরি করছে না, একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরিতেও ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
