মোঃ এমরান, লামা, (বান্দরবান)
পাহাড়, মেঘ, সবুজ আর আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বৈচিত্র্যে বান্দরবানের লামা উপজেলা দিন দিন আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে। বিশেষ করে মিরিঞ্জা, মারাইংতংসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ায় নতুন করে সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে স্থানীয় পর্যটন ও অর্থনীতিতে।
লামা ও আলীকদম উপজেলার সীমান্তজুড়ে থাকা মারাইংতং পাহাড় দীর্ঘদিন ধরেই প্রকৃতিপ্রেমীদের পরিচিত একটি গন্তব্য। পাহাড়ের চূড়া থেকে মেঘের ভেলা, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত এবং দূরের পাহাড়ের সারি দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসেন পর্যটকরা।
অন্যদিকে লামার মিরিঞ্জা পাহাড় ঘিরেও গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র ও থাকার ব্যবস্থা। ফলে শুধু তরুণ বা অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী নয়, এখন পরিবার-পরিজন নিয়েও অনেকে পাহাড়ে সময় কাটাতে আসছেন।
পর্যটকদের চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পরিবর্তন আসছে স্থানীয় পর্যটনসেবাতেও। থাকার জায়গা, খাবার, যাতায়াত, গাইড এবং বিভিন্ন ছোট ব্যবসাকে ঘিরে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়লে স্থানীয় দোকানদার, পরিবহন শ্রমিক, গাইড ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ও বাড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন, একজন পর্যটক লামায় এলে গাড়ি ব্যবহার, থাকা-খাওয়া, চলাফেরা থেকে শুরু করে স্থানীয়ভাবে কেনাকাটা সবকিছুর সঙ্গেই স্থানীয় অর্থনীতি সম্পৃক্ত। ফলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে এর সুফল স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছে।
তিনি বলেন, প্রতি দুই বছর পরপর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষক এনে রিসোর্ট মালিক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট স্টাফদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়। একজন পর্যটককে কীভাবে সেবা দিতে হবে, কীভাবে কথা বলতে হবে এবং পর্যটকদের সঙ্গে পেশাদার আচরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
মোঃ মঈন উদ্দিন আরও বলেন, সামনে পর্যটন মৌসুম শুরুর আগে লামার রিসোর্ট মালিক, রেস্টুরেন্ট মালিক, গাড়িচালক, চাঁদের গাড়িচালকসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বসা হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সেবার মান বজায় রাখা এবং কোনো পর্যটক যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
লামার বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরতে এসে একসঙ্গে একাধিক দর্শনীয় স্থান দেখার সুযোগও রয়েছে। মিরিঞ্জা ও মারাইংতংয়ের পাশাপাশি আশপাশের পাহাড়ি এলাকা, ঝিরি, নদী ও প্রাকৃতিক দৃশ্য পর্যটকদের ভ্রমণকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলছে।
তবে পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তথ্যসেবা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আরও পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন অবকাঠামো উন্নত করা গেলে লামা শুধু ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণের জায়গা নয়, স্থানীয় মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানেরও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। পাহাড়, মেঘ ও সবুজের এই জনপদে পর্যটনের সম্ভাবনা তাই ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।
