সংবাদদাতা, থানচি:
বান্দরবানের থানচিতে জুমচাষের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। পাহাড়ের ঢালু জমি, অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির উর্বরতাকে কাজে লাগিয়ে জুমের ধানের পাশাপাশি চিট্টা জাতের মিষ্টি কুমড়ার চাষ করছেন তারা। কম খরচে তুলনামূলক ভালো ফলন পাওয়ায় দিন দিন এ সবজির চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, জুমের জমিতে ধান, মরিচ, হলুদ, সাদা কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল একসঙ্গে চাষ করা হয়। এর মধ্যে মিষ্টি কুমড়া চাষে বাড়তি শ্রম ও বিনিয়োগ তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেই এটিকে বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় মিষ্টি কুমড়া চাষে ঝুঁকছেন চাষিরাও।
জানা গেছে, পাথুরে ও বালুময় পাহাড়ি জমি, যেখানে চাষাবাদ করাই ছিল কঠিন—সেখানেই এখন ফলছে মিষ্টি কুমড়া। উঁচু-নিচু ও তুলনামূলক অনুর্বর জমিতেও বিভিন্ন জাতের মিষ্টি কুমড়ার চাষ করা হচ্ছে। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও ভালো ফলন ও বাজারদর পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া চাষের মাধ্যমে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছরে ১৩৯ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে চিট্টা জাতের মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন মিষ্টি কুমড়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উঁচু-নিচু ও ঢালু পাহাড়ি জমিতে এ আবাদ ছড়িয়ে পড়ায় মিষ্টি কুমড়ার উৎপাদন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন্দু সড়ক, তুমা-তুঙ্গী সড়ক, থানচি-বলীপাড়া সড়ক ও ডিম পাহাড় এলাকার আশপাশের উঁচু-নিচু পাহাড়ি জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হচ্ছে। চিট্টাসহ বিভিন্ন জাতের কুমড়া চাষ করছেন কৃষকেরা। এসব জমির কোথাও ফলন ভালো, আবার কোথাও তুলনামূলক কম ফলন হচ্ছে।
এদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি মণ মিষ্টি কুমড়া ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা দরে কিনছেন তারা। তবে পাহাড়ি দুর্গম সড়কে পরিবহন খরচই বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুমড়া সংগ্রহের পর বাজারে পৌঁছাতে বাড়তি ব্যয় গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে পরিবহন খরচ কমবে এবং এতে চাষিরাও লাভবান হবেন।
স্থানীয় চাষি রাইলং ম্রো, চাইসিংউ মারমা ও স্টিফেন ত্রিপুরাসহ অনেকেই জানান, দিন দিন মিষ্টি কুমড়া চাষে আগ্রহ বাড়ছে। তবে স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়ার ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় ক্ষুদ্র চাষিদের উৎপাদিত কুমড়া কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হতে হয়।
তারা আরও বলেন, মানসম্মত বীজ, কৃষি উপকরণ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উৎপাদিত কুমড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে পাহাড়ি কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। জুমচাষের পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়ার আবাদ বাড়িয়ে পরিবারের আয় আরও বাড়াতে চান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওয়ালিদ হোসেন জানান, কম খরচে বেশি লাভ—মিষ্টি কুমড়া চাষে এটিই কৃষকদের প্রধান আকর্ষণ। সম্ভাবনাময় এ ফসলের উৎপাদন বাড়াতে উন্নত বীজ, আধুনিক চাষপদ্ধতি ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের উঁচু-নিচু ও ঢালু জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষের সুযোগ থাকায় প্রতিবছর এ আবাদ বাড়ছে।
