স্টাফ রিপোর্টার, পেকুয়া:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় জমি ও মৎস্য প্রজেক্টের বিরোধকে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইজন আহত হয়েছেন। একই সময়ে মৎস্য প্রজেক্টের ঘরে ভাঙচুর ও চিংড়ি মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রজেক্ট সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার দরদরী ঘোনা, রকিতদিয়া ও মটকাভাঙা এলাকায় রাত ১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতভর ওই এলাকায় একাধিক গুলির শব্দ শোনা যায়। এ ঘটনায় মৃত ফরিদুল আলমের ছেলে বাবুল (৪০) গুলিবিদ্ধ হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই ঘটনায় দিলোয়ারা বেগম নামে এক নারীও আহত হয়েছেন।
প্রজেক্ট সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, হামলাকারীরা মৎস্য প্রজেক্টের বসতঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় প্রজেক্ট থেকে প্রায় ৬৫ কেজি মাছ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাদের।
জানা গেছে, ওই মৎস্য প্রজেক্টের আওতায় ২৭৮ খানি জমি রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭ খানি জমি ক্রয় ও বর্গা সূত্রে শাহাজাহান মিয়া গং ভোগদখলে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অপরদিকে মাহমুদুল হক ও আবু ছিদ্দিক ৪৫ খানি জমি বর্গা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বাকি জমি খাস হিসেবে প্রজেক্টের বাইরে রয়েছে। বর্তমানে মৎস্য প্রজেক্টটি জমির মালিক শাহাজাহান মিয়া গংয়ের দখলে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন।
জমির মালিক শাহাজাহান মিয়া অভিযোগ করেন, জমি ও মৎস্য প্রজেক্ট নিয়ে আমিন শরীফের ছেলে মাহমুদুল হক এবং আবদুল বারির ছেলে আবু ছিদ্দিকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ লোকজন নিয়ে গুলিবর্ষণ করে প্রজেক্ট দখলের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করেন তিনি।
শাহাজাহান মিয়া বলেন, “গতকাল রাতে তারা সংঘবদ্ধ লোকজন নিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে প্রজেক্ট দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় প্রজেক্টের ঘর ভাঙচুর ও মাছ লুট করা হয়। বাধা দিতে গেলে দুইজন গুলিবিদ্ধ হন।”
তিনি আরও দাবি করেন, প্রজেক্টের জমি নিয়ে মাহমুদুল হক তার সঙ্গে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে পাঁচ বছরের জন্য জায়গা বুঝে নিয়েছিলেন। এরপরও তিনি বিরোধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন শাহাজাহান মিয়া।
চাষি জয়নাল আবদীন ও মোহাম্মদ হোছাইন অভিযোগ করেন, আবু ছিদ্দিক ও মাহমুদুল হকের নেতৃত্বে শতাধিক লোক গুলি করতে করতে মৎস্য প্রজেক্ট দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় ভাঙচুর ও লুটপাট করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। এসআই রিদুয়ান ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
