জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ:
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহরণ চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে র্যাব-১৫। আটক ব্যক্তিদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, র্যাব-১৫-এর সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প)-এর একটি আভিযানিক দল হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকার গহীন পাহাড়ে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালনা করে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির একটি আলোচিত মামলার প্রধান আসামি ও এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামিসহ তার সহযোগী এক অটোরিকশাচালককে অটোরিকশাসহ আটক করে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন রঙ্গীখালী স্কুলপাড়া এলাকার সুলতান আহমদের ছেলে মো. রাসেল (২৮) এবং রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকার রশিদ আহমদের ছেলে আরমান (২১)।
র্যাবের মিডিয়া কর্মকর্তা জানান, গত ২৬ জুন সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্র চারজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টেকনাফের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগীদের প্রত্যেকের পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অপহরণকারীরা তাদের ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালায়।
ঘটনার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ জুন ২০২৬ বিকেল আড়াইটার দিকে র্যাব-১৫-এর সিপিসি-১ একটি বিশেষ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে পাহাড়ের ভেতরে আটকে রাখা নির্যাতনের শিকার চারজন ভুক্তভোগীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকেই জড়িতদের গ্রেপ্তারে র্যাবের চিরুনি অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ জুলাই রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৫-এর একটি দল হ্নীলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকার দুর্গম পাহাড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মো. রাসেল ও তার সহযোগী আরমানকে আটক করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-১৫-এর মিডিয়া কর্মকর্তা অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশে অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মাদক, অপহরণ, হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনে র্যাব-১৫ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
