নাছির উদ্দিন সোহেল, মহেশখালী

টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মহেশখালীর অসহায় মানুষের পাশে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্ম ‘আমরা মহেশখালীবাসী’। মহেশখালী পেশাজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, ঢাকাস্থ মহেশখালী সমিতি, দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী, শুভানুধ্যায়ী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় পরিচালিত এক সপ্তাহব্যাপী ত্রাণ কার্যক্রমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রায় পাঁচ শতাধিক বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ত্রাণ কার্যক্রমের আওতায় মহেশখালী পৌরসভা, বড় মহেশখালী, ধলঘাটা, মাতারবাড়ী, কুতুবজোম, কালারমারছড়া, শাপলাপুর ও হোয়ানক ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে চাল, ডাল, তেল, আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। স্থানীয় টিম লিডার ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার নির্বাচন করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে ত্রাণ বিতরণ সম্পন্ন করা হয়।

ত্রাণপ্রাপ্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, বন্যায় অনেকের বসতঘর, কৃষিজমি ও জীবিকার উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে খাদ্য সহায়তা তাদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি এনে দিয়েছে। তারা এই মানবিক উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ত্রাণ কার্যক্রমের অন্যতম সমন্বয়ক রুহুল আমিন বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মহেশখালীর মানুষের সহযোগিতা, দেশ-বিদেশে থাকা প্রবাসী, দাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক সমর্থনের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় পাঁচ শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও যেকোনো মানবিক সংকটে আমরা একইভাবে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।

তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের সাফল্যের পেছনে ছিল মহেশখালীবাসীর সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা। মাঠপর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস পরিশ্রম এবং প্রবাসীদের উদার সহায়তা কার্যক্রমকে সফল করেছে।

ত্রাণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে মহেশখালী পেশাজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, ঢাকাস্থ মহেশখালী সমিতি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী এবং অসংখ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাঠপর্যায়ে সমন্বয় ও সহায়তা সংগ্রহে আবুল হাসেম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে ত্রাণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে আরও একশত পরিবারের জন্য খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করেন। ঢাকাস্থ মহেশখালী সমিতির সভাপতি আলী আহমদ-এর অবদানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ কার্যক্রমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের টিম লিডার ও স্বেচ্ছাসেবকেরা নিজ নিজ এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পরিবহন ও বিতরণে দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ করে ব্লাড প্রগতি ফাউন্ডেশন-এর স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিকতা, শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করেছেন আয়োজকরা।

মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি ফারুক ইকবাল বলেন, শুরুতে সীমিত সম্পদ নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও মহেশখালীবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া, প্রবাসীদের সহযোগিতা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই একটি বৃহৎ মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।

এক সপ্তাহব্যাপী এ কার্যক্রম শেষে মনির বিন সুলতান জানিয়েছে, এই উদ্যোগ কেবল ত্রাণ বিতরণ নয়; বরং এটি মহেশখালীবাসীর সামাজিক দায়বদ্ধতা, ঐক্য ও মানবিক চেতনার প্রতিফলন। ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগ বা মানবিক সংকটে একইভাবে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দুর্যোগের সময়ে ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও প্রবাসীদের সম্মিলিত উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ‘আমরা মহেশখালীবাসী’-এর এ উদ্যোগ মহেশখালীতে মানবিক সহযোগিতা ও সামাজিক সংহতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।