এম. মনছুর আলম, চকরিয়া;
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের স্লুইসগেটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আর শুধু পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ওপর থাকবে না। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এগুলোর ব্যবস্থাপনা করা হবে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য স্লুইসগেট খুলে দেওয়া যায় এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়।
তিনি বলেন, বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার একটি বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কোনো মানুষকে একা ফেলে রাখা হবে না। বন্যাকবলিত এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত স্লুইসগেট সংস্কার, খাল-নদী পুনঃখনন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে পেকুয়ায় একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণ সামগ্রী ও গৃহস্থালি উপকরণ বিতরণ, বিভিন্ন এলাকার ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ ও স্লুইসগেট পরিদর্শন এবং বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় পৃথক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একই ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে মানুষের যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটে পাশে থাকা সরকারের দায়িত্ব ও অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ, ক্ষমতার আগে জনগণ”—এই নীতিকে সামনে রেখেই সরকার কাজ করছে। তাই বন্যাসহ যেকোনো দুর্যোগে সরকার সবসময় জনগণের পাশে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, বন্যা প্রতিরোধে কোনো মহৌষধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। নদী ও সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস একটি প্রাকৃতিক বাস্তবতা। এ বাস্তবতা বিবেচনায় কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় শক্তিশালী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশনের জন্য আধুনিক স্লুইসগেট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, কোথায় বেড়িবাঁধ ভেঙেছে, কোথায় সংস্কার প্রয়োজন এবং কোথায় নতুন বাঁধ নির্মাণ করতে হবে—এসব চিহ্নিত করে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা অনুযায়ী দ্রুত কাজ শুরু হবে, যাতে ভবিষ্যতে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়।
