নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিলের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে এসব মিছিলের দৃশ্য দেখা যায়।
ভিডিওগুলো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ–সমর্থিত বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকেও শেয়ার করা হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ছাত্রলীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। পাশাপাশি দলীয় নানা স্লোগানও দিতে শোনা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওগুলোতে দাবি করা হয়, রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে, কাকরাইল মোড় এবং চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড়, দুই নম্বর গেট ও সিআরবি এলাকায় এসব মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় ঝটিকা মিছিলের ঘটনা সামনে এসেছে। পুলিশ জানায়, এসব মিছিল খুব অল্প সময়ের জন্য করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির আগেই দ্রুত স্থান ত্যাগ করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের শনাক্তের কাজ চলছে এবং শনাক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানারে অন্তত তিনটি ঝটিকা মিছিল হয়েছে। এসব ঘটনায় মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে মেহেদিবাগ, দুপুরে সিআরবি পলোগ্রাউন্ড এলাকা এবং দুই নম্বর ষোলশহর কর্ণফুলী মার্কেটের সামনে থেকে মিছিলগুলো বের করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিছিলে অংশ নেওয়া অধিকাংশই সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন জানান, জুমার নামাজের সময় পলোগ্রাউন্ড স্কুলের সামনে থেকে একটি ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে টহল টিম দ্রুত সেখানে পৌঁছে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে, সকালে এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের ব্যানারে আরেকটি মিছিল বের করা হয় বলে ভিডিওতে দেখা গেছে। মিছিলটি মেডিক্যাল সেন্টার এলাকা থেকে শুরু হয়ে গোলপাহাড় এলাকায় গিয়ে শেষ হয়, যা পাঁচলাইশ থানার আওতাধীন।
অন্য একটি ঘটনায়, দুই নম্বর ষোলশহর কর্ণফুলী কাঁচাবাজার এলাকা থেকে বের হওয়া মিছিলটি ষোলশহর মোড়ের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
পাঁচলাইশ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল রহমান বলেন, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ধরনের তৎপরতা সহ্য করা হবে না এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও, স্থিরচিত্র এবং স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্তের কাজ চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিষিদ্ধ সংগঠনের এ ধরনের প্রকাশ্য তৎপরতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক। জনবহুল এলাকায় হঠাৎ ঝটিকা মিছিল জনমনে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৭ এপ্রিল নগরের অন্যান্য আবাসিক এলাকা ও সাগরপাড়ে কয়েক সেকেন্ডের মিছিলের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই ভিডিওতে আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর নামও আলোচনায় আসে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। নগরজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
