চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানাধীন ডিসি রোড এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের আটতলা থেকে লিফটের গর্তে ফেলে আশফাক কবির সাজিদ নামে এক কলেজছাত্রকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা আবুল হাশেম সিকদার মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে চকবাজার থানায় সাতজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এর আগে রোববার রাতে বাকলিয়ার মৌসুমি আবাসিক এলাকার একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আশফাক কবির সাজিদ বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়। তিনি নগরের বাকলিয়া ডিসি রোড কবরস্থানের পাশের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
ঘটনার পর ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে আশফাককে তার বন্ধু ফারদিন হাসান মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকায় ডেকে নেয়। সেখানে পৌঁছালে আইমন, অনিক, রানা, মাইকেল, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ একদল তরুণ তাকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোর করে তুলে নিয়ে যায়।
একপর্যায়ে তাদের হাত থেকে বাঁচতে আশফাক পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঢুকে গেট বন্ধ করে আটতলায় উঠে যান। তবে হামলাকারীরা গেটে ধাক্কা দিলে নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক গেট খুলে দেন। পরে তারা ওপরতলায় গিয়ে আশফাককে মারধর করে এবং একপর্যায়ে আটতলা থেকে লিফটের ফাঁকা স্থানে ফেলে দেয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় আশফাককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আজাদ জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। হত্যার পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বলেন, “আমার ছেলে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। কেন তাকে হত্যা করা হলো, তা দ্রুত তদন্ত করে বের করতে হবে। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
