নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে গলা কাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ইরা (৭) দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সে Chittagong Medical College Hospital (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্তে Chandranath Dham পাহাড় এলাকায় স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকারীকে শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি মাহবুব (৫০), তিনি কুমিরা এলাকার বাসিন্দা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে Sitakunda Police Station।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ দুপুরে Sitakunda Eco Park and Botanical Garden এলাকায় স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় হেলেদুলে চলতে থাকা ৭ বছর বয়সী ইরাকে দেখতে পায়। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করে।
শিশুটির বাবা মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, স্কুল বন্ধ থাকায় ইরা প্রতিদিন সকালে গ্রামের দাদার বাড়িতে যেত এবং দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যে ফিরে আসত।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত শিশুর চাচা রমিজ উদ্দিন জানান, ধর্ষণের পর দুষ্কৃতকারী প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে ইরার গলা কেটে দেয়। ধারণা করা হয়, তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে অভিযুক্ত। কিন্তু ইরা রক্তাক্ত অবস্থায় জঙ্গলের বাইরে বেরিয়ে আসায় ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা আশা করছিলাম সে বেঁচে উঠবে, কিন্তু দুঃখজনকভাবে তা সম্ভব হয়নি। তদন্তে পাওয়া সিসি ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে আমরা খুনিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেছি। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
