নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামে পাওনাদারের টাকা পরিশোধ এড়াতে নিজেই ‘অপহরণের’ নাটক সাজিয়ে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছেন এক ব্যবসায়ী। শুধু তাই নয়, এ ঘটনায় ব্যবসায়িক অংশীদারদের ফাঁসানোর পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তৎপরতায় ওই ‘অপহরণ’ নাটকের পর্দা ফাঁস হয়েছে।
ব্যবসায়ী সফি উল্লাহ শনিবার নগরের চকবাজারে নিজের রেস্টুরেন্ট থেকে বহদ্দারহাট যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। বিষয়টি জানিয়ে রোববার পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার।
এর পরপরই পরিবারের কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একপর্যায়ে হাটহাজারীর ছাদেকনগর এলাকার একটি মাজারে সফি উল্লাহর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ জানায়, সেখানে এক ব্যক্তির সহায়তায় পরিবারের কাছে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করেছিলেন সফি উল্লাহ। তবে পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর আগেই তিনি সেখান থেকে সরে যান।
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জোরারগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস থেকে সফি উল্লাহকে উদ্ধার করা হয়।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের কাছে সফি উল্লাহ স্বীকার করেন, পাওনাদারের টাকা পরিশোধ এড়াতে আত্মগোপনে গিয়ে তিনি অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদারদের ফাঁসানোর পরিকল্পনাও ছিল তাঁর।
পুলিশের অভিযানে শেষ পর্যন্ত ‘অপহরণ’ নাটকের অবসান হয় এবং বাস থেকে উদ্ধার হন সেই ব্যবসায়ী নিজেই।
