নাছির উদ্দিন সোহেল, সিবিএন

কক্সবাজার জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, কক্সবাজার ইউনিট। সংগঠনটির সহায়তায় জেলার বন্যাকবলিত চকরিয়া, মাতামুহুরী, পেকুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবরডেইল ইউনিয়নের টেকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা পরিষদ প্রশাসক ও কক্সবাজার রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী।

রেড ক্রিসেন্ট সূত্রে জানা যায়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রকৃত অবস্থা ও প্রয়োজন নিরূপণে চকরিয়া, মাতামুহুরী, পেকুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও দরিদ্র পরিবারের তালিকা তৈরি করে তাদের মধ্যে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

চার উপজেলায় মোট ১ হাজার ২০০ পরিবারকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চকরিয়ায় ৩০০, মাতামুহুরীতে ২৯৪, পেকুয়ায় ৩০৩ এবং কুতুবদিয়ায় ৩০৩টি পরিবার সহায়তা পেয়েছে।

এর পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৫০০ জনকে জনপ্রতি ৮ হাজার টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি পরিবারের জন্য দেওয়া ত্রাণ প্যাকেজে ছিল ৭ কেজি চাল, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি তেল, ১ কেজি চিনি ও ৫০০ গ্রাম সুজি। এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি ও সুরক্ষা সামগ্রীর মধ্যে ছিল ১টি বালতি, ১টি মশারি, ১টি তেরপলিন ও ১টি মাদুর এবং একটি করে ডignity package।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী বলেন, দুর্যোগের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো রেড ক্রিসেন্টের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বন্যায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের প্রকৃত চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সহায়তা পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করছি। শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, দুর্যোগকবলিত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।

ইউনিট লেভেল অফিসার নাসরিন আকতার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রকৃত প্রয়োজন চিহ্নিত করে সঠিক পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। এজন্য মাঠপর্যায়ে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে রেড ক্রিসেন্ট মানুষের পাশে থেকে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এ মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

রেড ক্রিসেন্টের এ সহায়তায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন উপকারভোগীরা। দুর্যোগের পর খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর পাশাপাশি নগদ অর্থ সহায়তা পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে কিছুটা সক্ষম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।