এম. মনছুর আলম, চকরিয়া;
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। রাতভর বৃষ্টির ধারাবাহিকতা সকালেও থামেনি। বৃষ্টিস্নাত সকালে অন্যদিনের তুলনায় চকরিয়ার রাস্তাঘাট ছিল বেশ নিস্তব্ধ। বেশিরভাগ মানুষ তখনো ঘুম থেকে ওঠেনি, পুরোপুরি শুরু হয়নি সকালও। তবে থেমে ছিল না হাসপাতালে দায়িত্বে নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ববোধ।
বৃহস্পতিবার সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছাতা হাতে কর্মস্থলের পথে আসছিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স শিল্পী মল্লিক ও হান্না রুদ্র। হাসপাতালের মাঠে মানুষের জটলা দেখে তাঁরা দ্রুত এগিয়ে যান। কাছে গিয়ে দেখতে পান, এক গর্ভবতী মায়ের প্রসব টমটম গাড়ির মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
পরিস্থিতির খবর পেয়ে জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. মিনহাজুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স রাশেদা আক্তারসহ হাসপাতালের অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী। মুহূর্তের মধ্যেই গর্ভবতী ওই মায়ের প্রসব নিরাপদে সম্পন্ন করতে সম্মিলিতভাবে কাজ শুরু করেন তাঁরা।
হাসপাতালের গাইনি বিভাগেও খবর পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে মিডওয়াইফরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সবার আন্তরিকতা, দক্ষতা ও দ্রুত পদক্ষেপে টমটম গাড়িতেই নিরাপদে পৃথিবীর আলো দেখে এক ফুটফুটে নবজাতক।
পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় জরুরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মা ও নবজাতককে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও পরিচর্যার জন্য হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ আছেন।
ঠিক কয়েক দিন আগেও একইভাবে সিএনজি অটোরিকশায় এমন আরেকটি ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এবার আবারও হাসপাতাল চত্বরে জীবনের এক অপূর্ব মুহূর্তের সাক্ষী হলেন দিন-রাত মানুষের সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীরা।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীন বলেন, “একটি শিশুর নিরাপদে পৃথিবীতে আগমন শুধু একটি পরিবারের আনন্দ নয়; এর পেছনে থাকে অসংখ্য মানুষের দায়িত্ববোধ, আন্তরিকতা, দক্ষতা ও নিরলস প্রচেষ্টা। আজকের এই ঘটনাটিও যেন আবার মনে করিয়ে দিল—সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছানো এবং প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের তত্ত্বাবধানে প্রসব সম্পন্ন করা মা ও নবজাতক উভয়ের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “হাসপাতাল চত্বরে পৌঁছানোর আগেই যদি পথিমধ্যে প্রসব হয়ে যেত, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারত। সংকটাপন্ন হতে পারত মা ও নবজাতক উভয়ের জীবন। তাই প্রসববেদনা শুরু হলে বা প্রসবের সম্ভাব্য সময় ঘনিয়ে এলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে চলে আসুন।”
তিনি বলেন, “উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিরাপদ মাতৃত্ব ও সুস্থ নবজাতকের আগমনে সবসময় আপনাদের পাশে আছে। যারা নিরলস কষ্ট ও পরিশ্রম করে গর্ভবতী মায়ের নিরাপদ প্রসব সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
