নিজস্ব প্রতিবেদক;
কক্সবাজারের টেকনাফে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ‘মিথ্যা ও সাজানো’ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিক আরাফাত সানি দীর্ঘ ৬ মাস কারাভোগের পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন।
সোমবার (২০জুলাই) বিকেলে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে তিনি জামিনে মুক্ত হন। তাঁর মুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও স্বজনদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। কারাফটকে তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন সহকর্মীরা।
এর আগে, গত এপ্রিল মাসে সেন্ট মার্টিন থেকে ফেরার পথে শাহপরীর দ্বীপ ঘাট থেকে কোস্টগার্ড সদস্যরা তাঁকে আটক করে। পরবর্তীতে টেকনাফ মডেল থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের সাজানো মামলা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
সে সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানালেও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
আরাফাত সানির আইনি লড়াইয়ে যুক্ত আইনজীবীরা শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন—সীমান্তবর্তী এলাকার নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিতর্কিত অভিযান নিয়ে সাহসী প্রতিবেদন করায় একটি প্রভাবশালী মহলের রোষানলে পড়েন এই সাংবাদিক। এমনকি তাঁকে আটকের বিষয়ে কোস্টগার্ড ও আইএসপিআর (ISPR)-এর দেওয়া পৃথক বিজ্ঞপ্তিতেও ব্যাপক অসামঞ্জস্য ফুটে উঠেছিল।
কক্সবাজার ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাক) এর সভাপতি জসিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আজিম নিহাদ সাংবাদিক আরাফাত সানির মুক্তির পর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “সত্য প্রকাশের কারণেই সানিকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় দীর্ঘ ৬ মাস কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। সত্যের জয় সব সময়ই অবধারিত। আমরা শুরু থেকেই তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে আসছিলাম। সানির মুক্তি সংবাদপত্রের স্বাধীনতারই জয়।”
কারামুক্তির পর সাংবাদিক আরাফাত সানি সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, সকল বাধা ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সত্যের পক্ষে তাঁর লেখনী অব্যাহত থাকবে।
