টেকনাফ প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে নাফ নদী ও উপকূলে একের পর এক অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ ভেসে আসছে। সর্বশেষ রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটসংলগ্ন বিজিবি বিওপির সামনে নাফ নদীর তীর থেকে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গত ১৩ দিনে টেকনাফের নাফ নদী ও সীমান্ত উপকূলের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত মরদেহের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া যুবকের পরনে ছিল গাঢ় নীল রঙের হাফ প্যান্ট ও হালকা সবুজ রঙের একটি জার্সি। মুখে হালকা দাড়ি-গোঁফ রয়েছে। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশের ত্বকের রঙ পরিবর্তিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মরদেহে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহতের বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে পারে। তার পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, স্থানীয়দের দেওয়া খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। তবে এখনো মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তার ধারণা, সম্প্রতি মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া যাত্রীদের মরদেহ স্রোতে ভেসে এসে থাকতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণাও একই। তাদের মতে, সম্প্রতি সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াগামী দুটি ট্রলার মিয়ানমারের উপকূলে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যেই এসব মরদেহ থাকতে পারে।

ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো মিয়ানমারের দিক থেকে ভেসে এসেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সুরতহাল প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনুমান করা হচ্ছে, তাদের মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন আগে। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় মরদেহগুলো পচে বিকৃত হয়ে গেছে, ফলে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজের অভিযোগও পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের চলমান সংঘাত কিংবা মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের মরদেহ স্রোতের টানে নাফ নদী ও টেকনাফ উপকূলে ভেসে আসতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।

এর আগে গত ৮ জুলাই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সেন্টমার্টিন ও রাজারছড়া সৈকত থেকে তিন অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ১০ জুলাই শাহপরীর দ্বীপসংলগ্ন সৈকত থেকে আরও একটি মানবকঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। সব মিলিয়ে গত ১৩ দিনে টেকনাফের সীমান্ত উপকূল ও নাফ নদী থেকে পাঁচটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

এদিকে একই সময়ে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ও হিমছড়ি উপকূল থেকেও আরও দুটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।