শেফাইল উদ্দিন :

কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মাইজপাড়ার কোলাহলমুক্ত ও মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা আমির সুলতান এন্ড দিল নেওয়াজ বেগম হাই স্কুল আজ শিক্ষাক্ষেত্রে এক অনন্য সফলতার দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি এলাকাবাসীর আস্থা অর্জন করে একটি সম্ভাবনাময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
সুদূর আমেরিকা প্রবাসী প্রকৌশলী শহিদ উল্লাহর উদ্যোগে ২০২২ সালে বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে বিদ্যালয়কে সুসংগঠিত ও সঠিক পথে এগিয়ে নিতে সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেন সাজেদ সুলতান, জাহেদ ফরাজী, রাশেদুল হক ফরাজী, ইয়াছির সুলতানসহ আরও অনেকে।
প্রতিষ্ঠার শুরুতে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চালু থাকলেও তখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৫২ জন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের অক্লান্ত পরিশ্রম, আন্তরিকতা ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিবেদিত প্রচেষ্টায় বর্তমানে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চালু রয়েছে। এখন বিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৫৫ জন এবং শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ১০ জন। প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে সরকারি নিয়মনীতির আলোকে পরিচালিত হচ্ছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের পাশঘেঁষে অবস্থিত বিদ্যালয়টির চারপাশে রয়েছে মনোরম পরিবেশ। প্রথমে একটি একতলা ভবনে পাঠদান শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তীতে আরও একটি নতুন ভবন সংযুক্ত করা হয়েছে।
নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি সপ্তাহে একদিন স্পোকেন ইংলিশ ক্লাস, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা রেখেছে শিক্ষক মণ্ডলী। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞানচর্চা ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজেদ সুলতান বলেন,
“এলাকার অসহায় ও হতদরিদ্র, শিক্ষা-বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা। আমেরিকা প্রবাসী প্রকৌশলী শহিদ উল্লাহর হাতে গড়া এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আজ সফলভাবে শিক্ষাদানে এগিয়ে যাচ্ছে।”
শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এমন উদ্যোগ ঈদগাঁওসহ আশপাশের এলাকার শিক্ষাক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।