জেলা প্রশাসক
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়
কক্সবাজার।
বিষয়: ৩৯২ মিটার দীর্ঘ খুরুশকুল–ভারুয়াখালী সংযোগ সেতুর তেতৈয়া অংশে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ দ্রুত পরিশোধ করে সেতুর নির্মাণকাজ পুনরায় নির্বিঘ্নে চলমান রাখার জন্য আবেদন।
মহোদয়,
বিনীত নিবেদন এই যে, কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল– ভারুয়াখালী সংযোগ সেতুটি ভারুয়াখালীসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ-প্রত্যাশার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে ভারুয়াখালী থেকে কক্সবাজার শহরের সঙ্গে সরাসরি ও সহজ যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বর্তমানে যে দীর্ঘ ও ঘুরপথে যাতায়াত করতে হয়, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, সেতুটি চালু হলে মাত্র প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে ভারুয়াখালী থেকে কক্সবাজার শহরে যাতায়াত সম্ভব হবে।
অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সেতুর নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এলজিআরডি অফিস নিশ্চিত করেছে যে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের জুন নাগাদ সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে। ফলে সেতুটি দ্রুত সম্পন্ন ও উদ্বোধনের প্রত্যাশায় ভারুয়াখালীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে যে, তেতৈয়া অংশের ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ সংশ্লিষ্ট ভূমিমালিকরা এখনো অন্তত আংশিকভাবেও না পাওয়ায় স্থানীয় ভূমিমালিকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকরা পুনরায় সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।
উল্লেখ্য, এর আগেও ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থপ্রাপ্তি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তেতৈয়ার ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগণ সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য জনাব লুৎফুর রহমান কাজল মহোদয়ের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির সমাধান হয় এবং সেতুর নির্মাণকাজ পুনরায় চলমান হয়। কিন্তু ভূমিমালিকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি এখনো সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি না হওয়ায় একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।
এ বিষয়ে ভারুয়াখালীর নাগরিকদের পক্ষ থেকেও আমরা গত বছর জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট ভূমিমালিকদের ক্ষতিপূরণের অর্থ দ্রুত পরিশোধ এবং বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের জানামতে, ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত অর্থ ছাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকদের মধ্যে যেমন অর্থপ্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি নির্মাণকাজও পুনরায় বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মহোদয়,
ভূমি অধিগ্রহণের কারণে যেসব মানুষ তাঁদের মূল্যবান জমি হারিয়েছেন, তাঁদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পাওয়া তাঁদের আইনসঙ্গত ও ন্যায়সংগত অধিকার। তাই তাঁদের ক্ষতিপূরণের অর্থপ্রাপ্তির অনিশ্চয়তা কোনোভাবেই দীর্ঘায়িত হওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে, প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক সেতুর নির্মাণকাজ বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়া হলে প্রকল্পের সময় ও ব্যয় উভয়ই বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।
বিশেষ করে ভারুয়াখালীর মানুষের জন্য এই সেতুটি শুধু একটি অবকাঠামো নয়। এটি তাঁদের উন্নত যোগাযোগ, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক আর্থসামাজিক অগ্রগতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত। সেতুটি চালু হলে কক্সবাজার শহরের সঙ্গে ভারুয়াখালীর যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অতএব, তেতৈয়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকদের ন্যায্য অধিকার ও দাবির প্রতি যথাযথ সম্মান রেখে এবং বৃহত্তর জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আমরা আপনার সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
আমাদের বিনীত আবেদন—
১. তেতৈয়া অংশের ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত ফাইলটি জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা ও নিষ্পত্তি করা;
২. প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের অর্থ দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করা;
৩. ভূমিমালিকদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা করে তাঁদের ন্যায্য পাওনা ও ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির বিষয়ে সুস্পষ্ট আশ্বাস প্রদান করা;
৪. উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় ভূমিমালিকদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত পুনরায় শুরু ও নির্বিঘ্নে চলমান রাখা;
৫. প্রকল্পটি প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ায় অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক তদারকি ও সমন্বয় জোরদার করা; এবং
৬. সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে দ্রুত জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের ব্যবস্থা করা।
আমরা বিশ্বাস করি, আপনার সদয় ও কার্যকর হস্তক্ষেপে তেতৈয়া এলাকার ভূমিমালিকদের দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটিয়ে তাঁদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে খুরুশকুল–ভারুয়াখালী সংযোগ সেতুর নির্মাণকাজও দ্রুত পুনরায় চলমান হবে।
তেতৈয়া এলাকার ভূমিমালিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং ভারুয়াখালীর লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ-প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার জন্য আপনার সদয় হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কামনা করছি।
বিনীত নিবেদক
ভারুয়াখালীর সচেতন নাগরিকবৃন্দের পক্ষে
আবদুল হামিদ
লেখক ও ব্যাংকার
বানিয়াপাড়া, ভারুয়াখালী
ইমেইল:hamid1987.cu@gmail.com২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি.
সংযুক্তি:
১. খুরুশকুল–ভারুয়াখালী সংযোগ সেতুর বর্তমান নির্মাণকাজের ছবি।
2.