ক্যাম্পের বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরে সরকারের কর্মপরিকল্পনার কথা জানালেন মীর শাহে আলম

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন প্রকল্প পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০৫

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


এইচ এম জালাল উদ্দীন কাউছার, উখিয়া:

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ফেকাল স্লাজ থেকে জৈব সার তৈরির বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২ ওয়েস্ট, ক্যাম্প-১৭, ক্যাম্প-৪ (বর্ধিত) ও ক্যাম্প-৮ ওয়েস্ট টাওয়ার এলাকায় এসব প্রকল্প পরিদর্শন করেন।

এ সময় সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল, চন্দনাইশ-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন, অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) আবু সালেহ মো. ওবাইদুল্লাহ, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার, উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরোয়ার জাহান চৌধুরী, উখিয়া থানার অফিসার কামাল, উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম কাইছার নুর ও উপজেলা প্রকৌশলী মুক্তাদির।

প্রথমে প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২ ওয়েস্টের বি-৬ ব্লকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (DPHE) পরিচালিত সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট (SWM), প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ফেকাল স্লাজ ম্যানেজমেন্ট (FSM) প্রকল্প পরিদর্শন করেন।

প্রকল্পটিতে বর্জ্য সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে জৈব সার তৈরি করা হয়। উৎপাদিত সার রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এছাড়া প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি রুফটপ সোলার প্যানেলের মাধ্যমেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি প্রতিদিন প্রায় ছয় ঘণ্টা পরিচালিত হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম গত ১৮ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে।

প্রকল্প পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমের সামনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ দেশের অন্যান্য এলাকায় বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে সম্পদে রূপান্তরের বিষয়ে সরকারের কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

পরে তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪ (বর্ধিত) এলাকার এফ ব্লকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)-এর অর্থায়নে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। সেখানে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট (SWM), প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, ফেকাল স্লাজ ম্যানেজমেন্ট (FSM), বর্জ্য থেকে জৈব সার ও কয়লা প্রস্তুত এবং ডিস্টিলড ওয়াটার উৎপাদন প্রকল্প রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্প-৪ (বর্ধিত) এলাকার প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পটি ২০২৩ সালের অক্টোবরে উদ্বোধন করা হয় এবং একই বছরের নভেম্বরে কার্যক্রম শুরু হয়। তবে প্রায় আট মাস ধরে প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ প্রকল্পে উৎপাদিত বিদ্যুৎ মূলত প্রকল্প পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হতো। প্রকল্পটি পরিচালনা ব্যয়বহুল বলেও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী ক্যাম্প-৪ (বর্ধিত) এলাকায় একটি সফেদা, একটি আতা ও একটি জামরুল গাছের চারা রোপণ করেন।

পরে তিনি ক্যাম্প-৮ ওয়েস্ট টাওয়ার পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।