নিজস্ব প্রতিবেদক:
টেকনাফের হ্নীলা ফুলের ডেইল এলাকার একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে (বার্ষিক বনভোজন) উপজেলা বিএনপির সভাপতি এড. হাসান ছিদ্দিকীর অংশগ্রহণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানারকম নেতিবাচক প্রচারণা হচ্ছে। ইতোমধ্য বিভিন্ন জাতীয় এবং স্থানীয় গণমাধ্যম এ বিষয়ে সংবাদ করেছে। যা সরকারদলীয় নেতাদের সামাজিক মর্যাদা, রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাঁয়তারার অংশ মনে করছে স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, এড. হাসান ছিদ্দিকী শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি সামাজিক মর্যাদা সম্পন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তি। ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও তার সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। দলীয় দৃষ্টিকোণের বাইরে গিয়ে সামাজিক অনুষ্ঠানে তার অংশগ্রহণ স্বাভাবিক ব্যাপার।
একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের নানা শ্রেণী পেশা ও মতের লোকের সমাগম ঘটে। এতে তাদের সঙ্গে ছবি নিয়ে বিতর্ক তোলার কোন যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। এটি মানসিক দৈন্যতা ও হীনমন্যতার পরিচয়।
এসব অপপ্রচারকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে এলাকাবাসী।
বিএনপি’র পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বনভোজনে আমন্ত্রণকারী হ্নীলা ইউনিয়ন উত্তর শাখা বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল আজিম সোহেলের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা বিএনপি।

এড. হাসান ছিদ্দিকীর প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা:
একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এড. হাসান ছিদ্দিকী। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
এডভোকেট মোঃ হাসান ছিদ্দিকী বলেন, আমি টেকনাফ উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও জেলা জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে আমার সম্পৃক্ততা।
শনিবার রাত থেকে হ্নীলা ফুলের ডেইল এলাকার বার্ষিক বনভোজনে আমার উপস্থিতির একটি ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মিডিয়ায় মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ও অপপ্রচার আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানে ইর্ষান্বিত সার্থেন্বাষী মহল এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের আমার সুনাম ক্ষুন্ন করা এবং আগামী উপজেলা নির্বাচনে আমার প্রার্থিতার খবরে ভীতসন্ত্রস্ত প্রতিপক্ষের অপপ্রচার ছাড়া কিছু নয়। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

ছবির বিষয়ে বক্তব্য ও ব্যাখ্যা:
ওই দিন কক্সবাজার থেকে টেকনাফ আসার পথে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে হ্নীলা ইউনিয়ন উত্তর শাখা বিএনপির সদস্য সচিব ও বনভোজন আয়োজনকারী এলাকার সন্তান নুরুল আজিম আজিম সোহেল তাদের এলাকার উদ্যোগে আয়োজিত বনভোজন আগত লোকদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের অনুরুধ করলে আমিও সৌজন্যতার রক্ষার খাতিরে গাড়ি থেকে নেমে ফুলের ডেইল এলাকার কয়েকজন মুরব্বির সাথে কথা বলে ৫ মিনিটের পর চলে আসি। এরই মধ্যে এলাকার কতিপয় শুভাকাঙ্ক্ষী ছবি ধারণ করে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়। পরে রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মারফত জানতে পারি বনভোজন শেষে ফেরার পথে কতিপয় ছেলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়, যে ব্যাপারে আমি কোনভাবেই ওয়াকিপহাল নয়। ইতোমধ্যে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমার সৌজন্যতার খাতিরে ৫ মিনিটের অবস্থানের ছবি নিয়ে নোংরা অপপ্রচার শুরু করে এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় ভাইদের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ভিত্তিহীন নিউজ করায়।
এডভোকেট মোঃ হাসান ছিদ্দিকী বলেন, আমি মনে করি আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানে ইর্ষান্বিত পরাজিত শক্তি এবং আগামী উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার খবরে ভিতসন্ত্রস্ত প্রতিপক্ষ সাম্ভাব্য প্রার্থী এসব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সর্বোপরি আমার দলীয় নেতা-কর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, মিডিয়ার ভাইদের এসব এসব মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

কারণ দর্শানোর নোটিশ:
উদ্ভুত ঘটনার বিষয়ে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বিস্তারিত জানাতে হ্নীলা ইউনিয়ন উত্তর শাখা বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল আজিম সোহেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি এড. হাসান ছিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহাদাত হোসেন ২০ সেপ্টেম্বর এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক নুরুল হুদা প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী দলের ইউনিয়ন সদস্য সচিবের মত গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে আপনার সামাজিক বনবোজন থেকে ফেরার পথে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ও দেশ বিরোধী স্লোগান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন ও উর্ধ্বতন নেতৃত্বকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে।
উপরোল্লিখিত কারণে/অভিযোগের প্রেক্ষিতে আপনাকে কেন দল থেকে বহিষ্কার করা হবেনা এই মর্মে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিকট উপস্থিত হইয়ে উপজেলা কার্যালয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হল।