বিশেষ প্রতিবেদক
কক্সবাজারের পেকুয়ায় দশম শ্রেণির ছাত্রী এক কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে সামিরুল ইসলাম সাজিত (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করার প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে চকরিয়া পৌরসভার একটি বাড়ি থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার সামিরুল ইসলাম সাজিত পেকুয়া সদর ইউনিয়নের শেখেরকিল্লাঘোনা এলাকার সাজ্জাদুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, কিশোরীটি পেকুয়া সরকারি মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউশনের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এজাহারে তার বাবা অভিযোগ করেন, সামিরুল ইসলাম স্কুলে যাওয়া-আসার পথে তার মেয়েকে বিভিন্ন সময় বিরক্ত ও প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। একপর্যায়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে কিশোরীকে বাড়িতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পেকুয়া থানায় নিখোঁজের বিষয়ে জিডি করেন তার বাবা। জিডির নম্বর-১১৫৩, তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জানতে পারেন, সামিরুল ইসলাম সাজিত ওই কিশোরীকে চকরিয়া পৌরসভার ক্রসপাড়া এলাকার জামাল হোসেনের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। পরে পেকুয়া ও চকরিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় ২৫ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টার দিকে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি কক্ষ থেকে সামিরুলকে আটক এবং কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
এজাহারে কিশোরীর বাবার অভিযোগ, উদ্ধারের পর তার মেয়ের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন যে, চকরিয়ার ওই বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর অভিযুক্ত যুবক তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন।
এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা হেফাজতুর রহমান বাদী হয়ে সামিরুল ইসলাম সাজিতের বিরুদ্ধে পেকুয়া থানায় মামলা করার জন্য এজাহার দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া কিশোরীর প্রয়োজনীয় আইনগত ও চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পেকুয়ায় কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার
পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে
