ছৈয়দ আলম:
টেকনাফ উপজেলার ক্রীড়া অঙ্গনকে আরও গতিশীল, সুশৃঙ্খল ও নিয়মের মধ্যে আনতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা। এখন থেকে উপজেলায় যেকোনো ধরনের ক্রীড়া টুর্নামেন্ট বা প্রতিযোগিতা আয়োজনের আগে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে নতুনকুঁড়ি প্রতিযোগিতা-বাছাই, প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট, মাঠ সংস্কার, ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ এবং বিভিন্ন ক্লাব-সমিতির সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩ টায় টেকনাফ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভায় এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী। সভা পরিচালনা করেন ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন।
সভায় টেকনাফের বর্তমান ক্রীড়া পরিস্থিতি, মাঠ ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন, খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা এবং স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রথম সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন রনি, মোকতার হোসাইন বাপ্পি, সদস্য সাংবাদিক ছৈয়দ আলম, আব্দুস সালাম, মরজিনা আক্তার, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, সুপ্লব পাল ও মো: জোবায়ের ওসমান।
অনুমতি ছাড়া টুর্নামেন্ট নয় :
সভায় উপজেলার ক্রীড়া কার্যক্রমে সমন্বয় ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ভবিষ্যতে টেকনাফ উপজেলায় কোনো ক্লাব, সংগঠন বা ব্যক্তি উদ্যোগে টুর্নামেন্ট কিংবা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে হলে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অনুমতি নিতে হবে।
ক্রীড়া সংস্থার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, অনুমোদন ও সমন্বয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা, মাঠ ব্যবস্থাপনা, সময়সূচি এবং সার্বিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি একই সময়ে একাধিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের কারণে মাঠ সংকট ও সাংগঠনিক জটিলতাও কমবে।
নতুনকুঁড়ি ও গোল্ডকাপ নিয়ে পরিকল্পনা :
সভায় নতুনকুঁড়ি প্রতিযোগিতা এবং প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করা হয়। এসব প্রতিযোগিতায় স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং প্রতিযোগিতার মান ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, টেকনাফে ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় প্রতিভার অভাব নেই। প্রয়োজন শুধু নিয়মিত অনুশীলন, প্রতিযোগিতার সুযোগ ও সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা। পরিকল্পিতভাবে ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে টেকনাফ থেকে আরও অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে।
ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণে গুরুত্ব :
সভায় খেলোয়াড় ও বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণের বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রত্যন্ত এলাকার খেলোয়াড়দের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ক্রীড়া সংগঠনগুলোকে সহযোগিতার আওতায় আনার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
ক্লাব-সমিতির সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় :
উপজেলার বিভিন্ন ক্লাব, সমিতি ও ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়ের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সমস্যা, খেলোয়াড়দের চাহিদা এবং ক্রীড়া সংগঠনগুলোর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও ইউএনও এসএম অনীক চৌধুরী ক্রীড়া কার্যক্রমে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের উপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, খেলাধুলাকে শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তরুণ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশ এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন বলেন, টেকনাফের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও শক্তিশালী করতে ক্রীড়া সংস্থা, ক্লাব, সংগঠন ও খেলোয়াড়দের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজনের পাশাপাশি প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সুযোগ তৈরি করাই হবে ক্রীড়া সংস্থার অন্যতম লক্ষ্য।
নতুনকুঁড়ি ও প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ আয়োজন, ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ ও ক্লাব-সমিতির সঙ্গে মতবিনিময়ে গুরুত্ব
টেকনাফে ক্রীড়া কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত
পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে
