নিজস্ব প্রতিবেদক:
চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপি নেতা মো. আনিসুর রহমান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালনের পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন তিনি। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকা, বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা এবং এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান তিনি।
মো. আনিসুর রহমানের জন্ম ২০ মে ১৯৭৮ সালে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ফুলছড়ি চেয়ারম্যানপাড়ায়। তাঁর বাবা মরহুম সাবের আহমদ এবং মা মরহুমা দিলারা বেগম।
ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আনিসুর রহমান খুটাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম আহ্বায়ক, আহ্বায়ক ও সভাপতি এবং চকরিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বেও ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনে তাঁর বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় চারটি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে এবং একবার কারাবরণও করেছেন বলে জানান আনিসুর রহমান।
রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে মামলা, হামলা ও নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়লেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাননি।
আনিসুর রহমান জানান, বিএনপির কঠিন সময়ে খুটাখালীতে দলের বিভিন্ন কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ছিলেন। তাঁর বাড়ি থেকেই দলের বিভিন্ন কর্মসূচি ও নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো। এ কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
২০১৬ সালে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। একই সময় দলীয় কর্মকাণ্ডে আর্থিক ও নৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখেন বলে জানান।
তাঁর দাবি, ২০১৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে নিজস্ব অর্থায়নে নিজ বাড়ীতে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। গত প্রায় ১৭ বছর ধরে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক ও নৈতিক সহযোগিতা দিয়ে আসছেন।
দলীয় সূত্রে তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা জানান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ শিলংয়ে অবস্থানকালে তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী খুটাখালীর নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন আনিসুর রহমান।
তাঁদের দাবি, ওই সময় সালাহ উদ্দিন আহমেদের দেওয়া বার্তা ও সালাম খুটাখালীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আনিসুর রহমান ভূমিকা রাখেন। এ সময় তাঁর নেতৃত্বে খুটাখালী ইউনিয়নে যুবদলের স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রমও পরিচালিত হয় বলে তাঁরা জানান।
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে খুটাখালী এলাকায় বিএনপির প্রচার-প্রচারণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমেও আনিসুর রহমান সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন আনিসুর রহমান।
তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি অসচ্ছল ও কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারের বিয়ে-শাদিতে সহযোগিতা করে আসছেন তিনি।
এছাড়া রাজনৈতিক মামলায় হয়রানির শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ারও একাধিক নজির রয়েছে বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মানুষের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে আনিসুর রহমানকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে দেখা গেছে।
ব্যবসায়িক জীবনেও প্রতিষ্ঠিত আনিসুর রহমান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লবণ ও চিংড়ি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী মো. আনিসুর রহমান বলেন, দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। নানা প্রতিকূলতা ও মামলা-মোকদ্দমার মধ্যেও দলের আদর্শ থেকে সরে যাইনি। ভবিষ্যতেও বিএনপির আদর্শ ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যেতে চাই।
তিনি আরও বলেন, খুটাখালী ইউনিয়নের মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছি। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার মানুষের সেবা করতে চাই। শিক্ষা, যোগাযোগ, কৃষি, লবণ ও চিংড়ি খাতসহ ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই। জনগণের খাদেম হিসেবে আজীবন কাজ করে যেতে চাই।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে তিনি খুটাখালী ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের দোয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে আনিসুর রহমান চেয়ারম্যান পদে একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এলাকায় আলোচনায় রয়েছেন।