বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে

পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস পেকুয়া’ ক্যাম্পেইন

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৩ , আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৪

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


পেকুয়া প্রতিনিধি:

“এক দেশ, এক কিউআর—লেনদেনে বাংলা কিউআর” স্লোগানকে সামনে রেখে কক্সবাজারের পেকুয়ায় পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী “ক্যাশলেস পেকুয়া” ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল ও ক্যাশলেস লেনদেনের পরিধি বাড়ানো এবং ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে নিরাপদ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় পেকুয়া আলহাজ্ব কবির আহমদ চৌধুরী বাজারে পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র পেকুয়া উপ-শাখার উদ্যোগে এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং ব্যাংক কর্মকর্তারা অংশ নেন।

ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডিজিটাল লেনদেন এখন সময়ের দাবি। নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি, লেনদেনে সময়ক্ষেপণ এবং খুচরা টাকার সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা কমাতে ক্যাশলেস পেমেন্ট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন লেনদেনে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়লে ব্যবসায়িক লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে।

বক্তারা “বাংলা কিউআর”-এর বিভিন্ন সুবিধার কথাও তুলে ধরেন। তাদের মতে, একটি কিউআর কোডের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করা গেলে ব্যবসায়ীদের জন্য লেনদেন প্রক্রিয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে গ্রাহকের জন্যও নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন কমে আসে। ফলে দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় আর্থিক লেনদেনে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলের প্রধান ও উপ-মহাব্যবস্থাপক মেজবাহ উদ্দিন মাহবুব। বিশেষ অতিথি ছিলেন চকরিয়া শাখার ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম এবং চাম্বল উপ-শাখার ব্যবস্থাপক মো. রিদুয়ান করিম।

পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র পেকুয়া উপ-শাখার ব্যবস্থাপক মো. মোর্শেদুল হকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস বাদশা। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. হানিফ, মো. মঈন উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী বক্তব্য রাখেন।

কর্মসূচিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। ক্যাশলেস লেনদেনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তাদের অবহিত করার পাশাপাশি কীভাবে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ ও ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন বেচাকেনায় ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে তাদের উৎসাহিত করেন আয়োজকেরা।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্রমেই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রত্যন্ত ও উপজেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে ডিজিটাল আর্থিক সেবার আওতায় আনা জরুরি। ক্যাশলেস লেনদেনের অভ্যাস গড়ে উঠলে একদিকে যেমন আর্থিক লেনদেনের গতি বাড়বে, অন্যদিকে আধুনিক ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততাও আরও বৃদ্ধি পাবে।

পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে “বাংলা কিউআর” বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে পেকুয়া বাজারের ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের সুযোগ আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, তিন দিনব্যাপী “ক্যাশলেস পেকুয়া” ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ডিজিটাল লেনদেনের বিষয়ে মানুষের সচেতনতা বাড়বে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা নগদ অর্থের বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রতি আরও আগ্রহী হবেন। এর ফলে পেকুয়ায় ক্যাশলেস লেনদেনের পরিধি সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ, সহজ ও আধুনিক লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে উঠতে সহায়ক হবে।