সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ শূন্য করার প্রসঙ্গে বিরোধী দলকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। এ সময় রসিকতার সুরে তিনি বলেন, ‘এই বুদ্ধিটা বিনা পয়সায় দিলাম।’
জাতীয় সংসদে গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটিতে সদস্য করা নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে এ মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিও বক্তব্য দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করলেই সংবিধান অনুযায়ী তার সংসদ সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয় না। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বিপরীতে ভোট দেওয়া বা ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়টি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় আসতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি সত্যি সত্যিই চান তার আসনটি শূন্য হোক, তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের পক্ষে ভোট দেননি এবং ভোটদানে বিরত ছিলেন—সেই জায়গায় ৭০ অনুচ্ছেদ আসে।’
এ বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিঠি দেওয়া কিংবা নির্বাচন কমিশনে আবেদন করার পরামর্শ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিধি ও সংবিধান অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কথাও জানান তিনি। এরপর রসিকতার সুরে বলেন, ‘এই বুদ্ধিটা বিনা পয়সায় দিলাম।’
গাজী নজরুলকে কমিটিতে রাখা নিয়ে চিফ হুইপের ব্যাখ্যা
গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটিতে রাখার বিষয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সংসদে থাকা প্রত্যেক সদস্যকে অন্তত একটি সংসদীয় কমিটিতে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে সংসদে ৩৪৯ জন সদস্য রয়েছেন এবং প্রত্যেককেই কোনো না কোনো কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা রয়েছে।
তিনি জানান, গাজী নজরুল ইসলামের নাম আগে তিনটি কমিটিতে ছিল। এর মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি থেকে বিরোধীদলীয় নেতার অনুরোধে তার নাম বাদ দেওয়া হয়। পরে তাকে অন্য কোনো কমিটিতে রাখার সুযোগ না থাকায় প্রতিশ্রুতি-সংক্রান্ত কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে।
চিফ হুইপ বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকবে, ততক্ষণ তিনি সংসদের একজন সদস্য হিসেবেই বিবেচিত হবেন। তাকে বিরোধী দলের কোটায় নয়, সাধারণ সংসদ সদস্য হিসেবে ওই কমিটিতে রাখা হয়েছে।
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গাজী নজরুল ইসলামকে যদি বিরোধী দলের বরাদ্দকৃত কোটা থেকে কমিটিতে রাখা না হয়ে থাকে, তাহলে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
এর আগে গাজী নজরুল ইসলামকে কয়েকটি স্থায়ী কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল। পরে তাকে নতুন একটি কমিটিতে সদস্য করা নিয়ে সংসদে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
