এইচ এম জালাল উদ্দীন কাউছার, উখিয়া:

মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে আসা ইয়াবার চালান কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এরই মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়ায় অভিযান চালিয়ে দুই লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে উখিয়া থানা পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চালান ফেলে পালিয়ে যায় সংশ্লিষ্ট কারবারিরা।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মরাগাছতলা রোহিঙ্গা মার্কেটের সামনে কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান মজুমদারের নেতৃত্বে এসআই মিজানুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময় মহাসড়কের পাশে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়।

পরে বস্তাটি তল্লাশি করে ২০টি কার্ডে সুকৌশলে লুকানো অবস্থায় মোট দুই লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালানটি পরিবহনের উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা চালান ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।

উখিয়া থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান মজুমদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উদ্ধার করা ইয়াবা আইন অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে। চালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

সীমান্তবর্তী উখিয়া-টেকনাফে একের পর এক বড় ইয়াবার চালান আটকের ঘটনায় মাদক পাচারের ভয়াবহ চিত্র সামনে আসছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মাঝেমধ্যে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার হলেও এর বাইরে কত চালান দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের দুর্গম এলাকা ও নানা কৌশল ব্যবহার করে মাদক কারবারিরা ইয়াবা পাচার করছে। সীমান্ত থেকে উখিয়া-টেকনাফ হয়ে কক্সবাজার এবং পরে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে এসব মাদক। ফলে সীমান্তের মাদক এখন শুধু সীমান্তবর্তী এলাকার সমস্যা নয়; এটি জাতীয় জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

মাদকবিরোধী অভিযানে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু চালান আটক বা মাদক উদ্ধার করলেই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। সীমান্তে নজরদারি জোরদার, পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত, মাদক পরিবহনের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং মাদকের চাহিদা কমাতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

মানবাধিকার কর্মী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “উখিয়ায় দুই লাখ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে, সীমান্ত দিয়ে ঢোকা মাদকের স্রোত ঠেকানো না গেলে এর বিষাক্ত ছোবল থেকে দেশের নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”