নাছির উদ্দিন সোহেল, সিবিএন:
কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে আটটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুটি মোবাইল ফোনসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত ২৯ আগস্ট রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের ঠাকুরতলা চৌরাস্তা মোড়ে স্থাপিত চেকপোস্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কুসুমপুর ইউনিয়নের হরিনখাইন এলাকার মোতাহের হোসেনের ছেলে মো. রুবেল মিয়া (৩৪) এবং মহেশখালীর ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের ঠাকুরতলা এলাকার মৃত মনিন্দ্র দের ছেলে মানিক দে (৩৮)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ আগস্ট মহেশখালীর শাপলাপুর ইউনিয়নের মিঠাছড়ি এলাকার পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়। ওই অভিযানে একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মহেশখালীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের তৎপরতা ও চেকপোস্টে তল্লাশি জোরদার করা হয়।
এর অংশ হিসেবে গত ২৯ আগস্ট রাত সোয়া ৯টার দিকে ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের ঠাকুরতলা চৌরাস্তা মোড়ে চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিল মহেশখালী থানা পুলিশের একটি দল।
এ সময় আদিনাথ জেটিঘাট থেকে বদরখালীগামী একটি সবুজ রঙের সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। পুলিশের সংকেতে সিএনজিটি থামার পর ভেতরে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ ধাওয়া করে দুজনকে আটক করতে সক্ষম হলেও অপর দুজন পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে সিএনজিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি কালো রঙের ট্রাভেল ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগটি খুলে সাদা ও কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি দেশীয় তৈরি রাইফেল, ছয়টি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক এবং একটি এলজি পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে আটটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়।
এ ছাড়া গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হেফাজত থেকে ইনফিনিক্স ও ভিভো ব্র্যান্ডের দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পলাতক অপর দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় আপাতত প্রকাশ করা হয়নি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
