নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের ব্যবসায়ীদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন কক্সবাজার দোকান মালিক সমিতি ফেডারেশনের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন আগামী ২৮ আগস্ট, শুক্রবার।
নির্বাচনে ১৯টি পদের বিপরীতে ৪৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার প্রায় ১৩০০।
সভাপতি পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম সওদাগর আনারস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আলহাজ্ব ফরিদ আহমদ চৌধুরী। তিনি ছাতা প্রতীকে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এই নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের পাশাপাশি সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন আবুল হাশেম সওদাগর। শুধু সরাসরি নয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও তিনি সক্রিয়। ফোন এবং ম্যাসেজে চাওয়া হচ্ছে ভোট। তালিকা ধরে সরাসরি যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বার।
আনারসের পক্ষে অনলাইন এবং অফলাইনে চলছে ব্যাপক প্রচারণা। শক্তিশালী মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সবকিছু পুঙ্খানুপু তদারকি করা হয়। ব্যবসায়িক বলয়ের বাইরেও পারিবারিকভাবে কয়েকটি টিম মাঠে নিরলস কাজ করছে।
অনেক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র মাহবুবুর রহমানের বিরাট ভোট ব্যাংক আবুল হাশেম সওদাগরকে বিজয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া বিএনপির শক্তিশালী একটি পক্ষ তার জন্য কাজ করছে। বিজয়ের লক্ষ্যে প্রার্থী নিজেও ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। ভোট আদায়ে সর্বোচ্চ কৌশলে হাঁটছেন। যাকে যেভাবে ম্যানেজ করার তাকে সেভাবে ম্যানেজ করছেন। অতীতে ব্যবসাবান্ধব ভূমিকাও নির্বাচনের মাঠে তাকে এগিয়ে রেখেছে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন ভোটার বিশ্লেষণ করে বলেছেন, বিগত সময়ে তার সততা জবাবদিহিতা ও ব্যবসায়ীদের আপদে বিপদে সংশ্লিষ্টতার কারণে চলমান নির্বাচনে ব্যবসায়ীরা তার পক্ষে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন আবুল হাশেম সওদাগর। শতকরা ৭০ ভাগের অধিক ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হবেন।
অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আলহাজ্ব ফরিদ আহমদ চৌধুরী প্রচারণায় নেমেছেন মাত্র এক দিন আগে। অনেক ভোটারের কাছে এখনো পৌছতে পারেননি। নির্বাচনী এলাকায় চোখে পড়ার মতো কোনো প্রচার পত্র তথা ব্যানার, ফেস্টুন লাগানো হয়নি। প্রার্থী হিসেবেও আলহাজ্ব ফরিদ আহমদ চৌধুরী তার প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল হাশেম সওদাগরের দৌঁড়ে পিছিয়ে। ভোটের মাঠে তাকে তেমন স্বতঃস্ফূর্ত মনে হয় না। এরপরও বাকি সময়গুলোতে আলহাজ্ব ফরিদ আহমদ চৌধুরীর বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও বিশাল জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে পারলে পাল্টে যেতে পারে হালচাল।
অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ হাড্ডাহাড্ডি হবে বলেই ধারণা ভোটারদের। পাশাপাশি সিনিয়র সহ সভাপতি পদে এখন পর্যন্ত ত্রিমুখী লড়াই চলছে। নির্বাচন যতো ঘনিয়ে আসছে প্রচার – প্রচারণা ও ভোটারদের মন জয়ে প্রার্থীরা আরো এগিয়ে যাবেন বলে ভোটারদের ধারণা।
এদিকে এবারের নির্বাচনে মোট ২১টি পদের মধ্যে ২টি পদে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ১৯টি পদে ৪৬ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে মাঠে আছে।
নির্বাচনে ২১৭ জন আজীবন সদস্য ও ১ হাজার ১২২ জন সাধারণ সদস্যসহ মোট ১ হাজার ৩৩৯ জন ভোটার। ভোট হবে ১৯টি পদে।
ফেডারেশনের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পেয়েছেন মাস্টার বোরহান উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। কমিশনের সদস্য সালাহ উদ্দিন ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে কমিশন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের দিন জুমার নামাজের জন্য দেড় ঘন্টা বিরতি থাকবে।
সুষ্ঠু ভোটগ্রহণে সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, ভোটার এবং ব্যবসায়ীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাস্টার বোরহান উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
ফেডারেশনের নির্বাচনে সভাপতি পদে হাশেম সওদাগর এগিয়ে থাকার কয়েক কারণ
পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে
