পেকুয়া প্রতিনিধি;

ভুয়া ও অস্তিত্বহীন ব্যক্তির নামে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যুর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব মোহাম্মদ নূরুল আলমকে (৪৭) তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তবে একই মামলায় অভিযুক্ত মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম এবং পেকুয়া উপজেলার তৎকালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সৌভ্রাত দাশকে অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ নূরুল আলম চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর এলাকার মৃত আবু সালামের ছেলে। তিনি বর্তমানে মাতামুহুরী উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে আদালতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন জানান, মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং উপস্থাপিত প্রমাণে সাবেক ইউপি সচিব মোহাম্মদ নূরুল আলমের বিরুদ্ধে ভুয়া ও অস্তিত্বহীন ব্যক্তির নামে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যুর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, দুদকের প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনায় পরিচালিত তদন্তে উঠে আসে, মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন সচিব মোহাম্মদ নূরুল আলম ক্ষমতার অপব্যবহার করে চারজন ভুয়া ও অস্তিত্বহীন ব্যক্তির নামে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু করেন। তিনি ছৈয়দ আহমদ, মো. ইউনুছ, শামসুন্নাহার ও রহিম উল্লাহ নামে চারটি জন্মনিবন্ধন তৈরি করেন, যাদের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব ছিল না। অভিযোগে বলা হয়, এসব ভুয়া জন্মনিবন্ধন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়।

তদন্ত শেষে দুদক তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরবর্তীতে আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় খালাসপ্রাপ্ত সাবেক চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম বলেন, “জন্মনিবন্ধন ইস্যুর বিষয়টি মূলত ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট কোড ও কারিগরি নিয়ন্ত্রণও সচিবের কাছেই থাকে। তদন্তকারী কর্মকর্তা সব নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে আগেই আমাকে অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন। আদালতও আজ আমাকে চূড়ান্তভাবে খালাস দিয়েছেন। এজন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।”