সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, আলীকদম:
টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অন্তত ৩০টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও ঘরের চাল পর্যন্ত পানি ওঠায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের জীবিকাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ থেকে প্রায় ১০০ ফুট দূরে আলীমুদ্দিনপাড়ার প্রায় ১৫টি পরিবার টানা তিন দিন ধরে পানিবন্দি রয়েছে। ঝিরির পাশে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিবছরই এ এলাকায় পানি ওঠে। তবে কয়েক দিনের টানা বর্ষণে এবার পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আলীমুদ্দিনপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পানি জমেছে।
এ ছাড়া ফুটেরঝিরি, চৈক্ষ্যং, শিবাতলী, রোয়াম্ভু, সূর্যমনি কারবারীপাড়া, আবু মেম্বারপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমির সবজি ও অন্যান্য ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ফুটেরঝিরি এলাকার বাসিন্দা মো. করিম জানান, নদীতীরবর্তী হওয়ায় তাঁদের এলাকা সবার আগে প্লাবিত হয়। সোমবার থেকে পানি বাড়তে শুরু করে এবং বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির উচ্চতাও বৃদ্ধি পায়। বৃহস্পতিবার সকালে পানি কিছুটা কমলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও এলাকা প্লাবিত হয়।
তিনি বলেন, “প্রতিবারই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হই। একটু ঘুরে দাঁড়াতেই আবার ঘর আর ফসল ডুবে গেল। গতকাল সারাদিন কিছু খেতে পারিনি। রাতে উপজেলা প্রশাসন যে খাবার দিয়েছে, সেটাই খেয়েছি। এখন ঘরে কিছুই নেই। আল্লাহই জানেন, কীভাবে দিন কাটবে।”
স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের কারণে এবার আলীকদমে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নয়াপাড়া, আব্বাস কারবারীপাড়া, রোয়াম্ভু, খুইল্লা মিয়াপাড়া, বুলু কারবারীপাড়া, মোস্তাকপাড়া, সদর হিন্দুপাড়া, বাজার মার্মাপাড়া, পশ্চিম বাজারপাড়া, সাবের মিয়াপাড়া, থানাপাড়া, আলীমুদ্দিনপাড়া, নাছির মাস্টারপাড়া, ইছাক কারবারীপাড়া, ওবাইদুল হাকিমপাড়া, মংচিং হেডম্যানপাড়া, আমতলী লংঘাট, ফুটেরঝিরি, বটতলীপাড়া, চাহ্লাপ্রুপাড়া, থোয়াইচিং হেডম্যানপাড়া, শিবাতলী ও রেপারপাড়াসহ অন্তত ৩০টি এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পৃথকভাবে পরিদর্শন করেন আলীকদম জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম। এ সময় তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে তাৎক্ষণিক খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন এবং সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, “ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। কারও ঘরবাড়ি, আবার কারও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।”
