আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি :

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে নিহত তিন পাহাড়ি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে নিহতদের পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ, কম্বল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে এ সহায়তা প্রদান করা হয়। সহায়তার আওতায় প্রতিটি পরিবারকে চারটি করে কম্বল, ৩ হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং চাল, মসুর ডালসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবদুল্লাহ আল মামুন এবং জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় ওসাই মং মার্মা ছোটনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়াপাড়া এলাকার তিন পাহাড়ি বাসিন্দা—লেয়ারা (৪১), অংকে মং (৫০) এবং চিংকা অং (৪০) সীমান্তবর্তী এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত হন। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং পরিবারগুলো চরম মানবিক সংকটে পড়ে।

নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক সহায়তা তাদের কিছুটা হলেও সাহস ও মানসিক শক্তি জুগিয়েছে।

সহায়তা গ্রহণ শেষে পরিবারের সদস্যরা উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, “আমরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছি। এই কঠিন সময়ে উপজেলা প্রশাসন আমাদের খোঁজ নিয়েছে এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে আমরা অনেকটা সান্ত্বনা পেয়েছি। সরকারের এই সহমর্মিতা আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি।”

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান বলেন, “মাইন বিস্ফোরণে নিহত পরিবারের ক্ষতি কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে মানবিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও এসব অসহায় পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে, সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি সরকারের সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।