আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি :

সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনে আরেকটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় দরিদ্র, অসহায় ও মাইন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি পরিবারের মাঝে বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২ জুন) নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব সহায়তা বিতরণ করা হয়। সহায়তার আওতায় নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ও ঘুমধুম ইউনিয়নের দুটি দরিদ্র পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়। এছাড়া আটটি অসহায় পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

অপরদিকে, সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন সময়ে মাইন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পরিবারের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ছাগল, সেলাই মেশিন ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বিজিবির এ উদ্যোগে উপকারভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকার জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিজিবি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এসব কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আজকের সহায়তা প্রদান সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। ভবিষ্যতেও নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন এ ধরনের কল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।”

স্থানীয়রা বিজিবির এ মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সীমান্ত এলাকার দরিদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ, যা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।