আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি;

বান্দরবানের সীমান্তবর্তী উপজেলা নাইক্ষ্যংছড়িতে দায়িত্ব পালনকালে সাধারণ মানুষের আস্থা, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী। ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই তিনি মানবিক প্রশাসন ও উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উপজেলাবাসীর কাছে একজন জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। গত ৭ মে ছিল নাইক্ষ্যংছড়িতে তার শেষ কর্মদিবস। বিদায়ের মুহূর্তে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

দায়িত্ব পালনকালে তিনি শুধু একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবেই নয়, বরং সাধারণ মানুষের অভিভাবক হিসেবে কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তার অফিস সবসময় সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত ছিল। কোনো ধরনের অহংকার বা আনুষ্ঠানিকতার দেয়াল না রেখে তিনি সরাসরি মানুষের কথা শুনতেন এবং সমস্যা সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নিতেন।

উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও সীমান্তবর্তী জনপদে গিয়ে তিনি সরেজমিনে মানুষের সমস্যা পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, খাল খনন, জলাবদ্ধতা নিরসন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং ভূমি সেবাসহ বিভিন্ন খাতে তার উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ড কিংবা অসহায় মানুষের সংকটের সময়ও সাধারণ মানুষ তাকে পাশে পেয়েছে। মানবিক মূল্যবোধ, সততা ও দায়িত্বশীল আচরণের কারণে তিনি খুব অল্প সময়েই মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নাইক্ষ্যংছড়িতে তার দায়িত্বকাল ছিল উন্নয়ন ও মানবিক প্রশাসনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার বিদায়ে উপজেলাবাসী একজন দক্ষ ও মানবিক প্রশাসককে হারালেও মানুষের হৃদয়ে তিনি দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।