সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, আলীকদম;

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম ৪ নম্বর কুরুকপাতা ইউনিয়নে শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, ফুসকুড়ি ও শ্বাসকষ্টসহ হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত হয়ে আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের লক্ষণ নিয়ে ১৫ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি পাড়ায় শিশুদের অসুস্থ হওয়ার খবর জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার একটি বেসরকারি অনাথ আশ্রমের এক শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে মারা গেছে।

মঙ্গলবার রাতে মারা যাওয়া শিশুটির নাম চাংমুম ম্রো (৮)। দুর্গম এলাকা হওয়ায় বুধবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়। তার বাড়ি উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে।

চাংমুম ম্রো কুরুকপাতা ইউনিয়নের ‘প্রেন্নয়’ নামের একটি অনাথ আশ্রমে থেকে পড়াশোনা করত। আশ্রমটির পরিচালক উথোয়াইংগ্যো মারমা জানান, মঙ্গলবার রাতে জ্বর ও সর্দি থেকে হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। হামের লক্ষণ থাকায় গত এক সপ্তাহে আশ্রমটির ৪০ জন শিশুকে আলীকদম হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জনকে ভর্তি করা হয়।

কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, এখনো ইউনিয়নের উজিপাড়া, ছোট ব্যাটি, বড় ব্যাটি পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু শিশু হামের উপসর্গে আক্রান্ত। এর মধ্যে ১১ এপ্রিল দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলো রিংলতপাড়ার লুকুন ম্রোর সাত মাস বয়সী ছেলে খতং ম্রো এবং লেংক্লাং ম্রোর তিন মাস বয়সী মেয়ে জংরুং ম্রো। তবে চিকিৎসকদের ধারণা, ওই দুই শিশুর মৃত্যু হামে হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. হাসান বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে আজ ১৬ জন শিশু এসেছে, এদের মধ্যে ৬ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার থেকে ভর্তি রয়েছে ৯ জন। বর্তমানে মোট ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত দুই সপ্তাহে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬১ জন রোগী এসেছে। এদের মধ্যে ২৮ জনকে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ১৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং ১৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) মো. হানিফ চাংমুম ম্রোর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে আনার পথে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে, তবে মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়নি।

তিনি আরও জানান, আগামী শনিবার থেকে কুরুকপাতা ইউনিয়নে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালু করা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে দুইজন করে স্বাস্থ্যকর্মী গিয়ে বাড়ি বাড়ি খোঁজ নেবেন। হামের উপসর্গে আক্রান্ত ১০ বছরের নিচে কোনো শিশুকে পাওয়া গেলে দ্রুত হাসপাতালে আনা হবে।

উল্লেখ্য, আলীকদমের কুরুকপাতা ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে অবস্থিত। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, ছোট-বড় মিলিয়ে ইউনিয়নের ১৩৫টি পাড়ায় প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাস। সীমান্ত সড়কের সঙ্গে আলীকদম-জানালিপাড়া-পোয়ামুহুরী হয়ে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক থাকলেও অধিকাংশ পাড়া সড়ক থেকে অনেক দূরে। বিশেষ করে ম্রো পাড়াগুলোতে কোনো সড়ক যোগাযোগ নেই। এছাড়া প্রায় ৯৫ শতাংশ পাড়ায় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক না থাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।