মিয়ানমারের সাবেক সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং দেশটির পার্লামেন্টের ভোটে ১১তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি অর্ধেকের বেশি সমর্থন পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন।

চীনা সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী নেপিদোর ইউনিয়ন পার্লামেন্টে আইনপ্রণেতারা ৬৯ বছর বয়সী মিন অং হ্লাইংয়ের পক্ষে ভোট দেন। মিন অং হ্লাইং ২০১১ সাল থেকে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে চলতি বছরের মার্চে পদত্যাগ করেন তিনি। তার স্থলাভিষিক্ত হন সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ইয়ে উইন উ।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার প্রধান অং সান সুচিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই কার্যত দেশ পরিচালনা করে আসছিলেন মিন। ওই অভ্যুত্থানের ফলে সুচির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং দেশটিতে চলমান গৃহযুদ্ধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পর মিন অং হ্লাইং গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া তিন ধাপের নির্বাচন প্রক্রিয়া তদারকি করেন। এতে সামরিক সমর্থিত দলগুলো, বিশেষ করে ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি বিজয়ী হয়। নতুন পার্লামেন্টে প্রথম অধিবেশন শুরু হয় গেল মাসের ১৬ তারিখ।

সামরিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে মিয়ানমার। ২০১৭ সালে পরিচালিত সামরিক অভিযানের ফলে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়।

২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর করিম খান মিন, অং হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ—বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের বিতাড়ন ও নির্যাতনের সঙ্গে মিনের সংশ্লিষ্টতার ‘যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি’ রয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে গাম্বিয়া।