সিবিএন ডেস্ক
মানিকগঞ্জ শহরে একটি বিউটি পার্লারের আড়ালে সংঘবদ্ধভাবে দেহব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে মা–ছেলেসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নারীদের জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করা এবং অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ শহরের পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকায় এলজিইডি অফিসের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ‘রাইসা বিউটি ঘর’ নামের একটি পার্লারের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পার্লারটির মালিক রত্না ইয়াছমিন সহযোগীদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলে সেখানে দেহব্যবসা পরিচালনা করছিলেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী জানান, তিনি ওই পার্লারে চাকরি করতেন। চাকরির সুযোগে পার্লারের মালিক ও তার সহযোগীরা তাকে দেহব্যবসায় বাধ্য করার চেষ্টা করেন। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় নানা ধরনের চাপ ও নির্যাতনের শিকার হন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ১১ মার্চ তার ১৩ বছর বয়সী ছোট বোন বেড়াতে এলে তাকেও দেহব্যবসায় যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে আপত্তি জানালে ১৪ মার্চ রাতের দিকে কয়েকজন অভিযুক্ত তার উত্তর সেওতা এলাকার বাসায় গিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়।
পরে পশ্চিম বান্দুটিয়ার ওই পার্লারে নিয়ে তাকে মারধর করা হয় এবং হাত বেঁধে শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে ধারালো কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং মুখে কালি মেখে অপমান করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাইরে থেকে এটি একটি সাধারণ বিউটি পার্লার মনে হলেও ভেতরে ভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড চলার বিষয়ে এলাকায় আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল।
ভুক্তভোগীর স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ পার্লারের মালিক রত্না ইয়াছমিন, তার ছেলে মো. তুষার রহমান (২৬) এবং তাজনীন আক্তার চাঁদনী (২৩) নামের এক নারীকে আটক করে। তবে অন্য অভিযুক্তরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান।
আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী নারীকে চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম হোসেন বলেন, ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
