ঢাকা, ১ মার্চ ২০২৬ (রবিবার): দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের অতি শীঘ্রই আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়-এ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা গেছে এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, প্রায় দুই মাস আগে চট্টগ্রামের এক বড় ব্যবসায়ীর কাছে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ চাঁদা দাবি করেছিল। এরপর চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ওই ব্যবসায়ীর বাসায় নিরাপত্তা ও পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা করেন। এতে সুবিধা না পেয়ে একই গ্রুপ দুই মাস পর আবারও হামলার চেষ্টা চালায় এবং এ সময় তারা ভারি অস্ত্র ব্যবহার করে গোলাগুলি করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে একটি সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল, যার ভিত্তি ছিল জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারনামার একটি দফা। ওই দফায় সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন ও অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। এ অঙ্গীকারের আলোকেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কতদিন মাঠে থাকবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সেনাবাহিনীও দীর্ঘদিন মাঠে থাকতে আগ্রহী নয়, কারণ এতে তাদের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। তবে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

র‍্যাবের নাম ও পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে জনচাহিদা রয়েছে এবং জুলাই জাতীয় সনদেও এ বিষয়ে সুপারিশ আছে। র‍্যাব একটি বিশেষায়িত বাহিনী উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—বাহিনীটি কী আদলে পরিচালিত হবে, তাদের এখতিয়ার, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।